সারা বাংলা

আগাম তরমুজে ব্যবসায়ীদের হতাশা

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালীর বাজারে রাজশাহী থেকে আসা আগাম তরমুজের দেখা মিলেছে। চলতি মৌসুমে বসন্তের শুরুতেই বাজারে অসময়ে তরমুজ দেখে ভোক্তারাও চমকিত হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রকৃতিতে শীতের আমেজ থাকায় দাম ও বিক্রি দুটিই কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ফলে বিক্রেতাদের মধ্যে হতাশা কাজ করেছে।

এদিকে চুক্তি অনুযায়ী আগাম জাতের তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে কিনে আড়তে মজুত করেছে অনেক আড়তদার। কিন্তু তরমুজের চাহিদা কম হওয়ায় তারা এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকেরা জানান, নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরের খুব কম পরিমাণ জমিতে তরমুজের চাষ হয়ে থাকে। সেসব তরমুজ বাজারজাত হতে আরও দেড় মাস বাকি। গরম শুরু হলেই শুধু তরমুজের চাহিদা যখন বাড়বে তখন সে তরমুজ বাজারে উঠবে। এখন যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো আগাম জাতের তরমুজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে নোয়াখালী শহরের পৌরবাজার, চৌমুহনী কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এ আগাম তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। শহরের পৌরবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি আড়ত থেকে তরমুজ কিনে খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন ফল ব্যবসায়ীরা। খুচরায় প্রতি কেজি ৫০ টাকা দর হাঁকা হচ্ছে এসব তরমুজের।

গতকাল সকালে পৌরবাজান থেকে তরমুজ কিনছিলেন সোনাপুরের এলাকার বাসিন্দা মহিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বসন্ত শুরু হলেও এখনও শীত পড়ছে। এজন্য তরমুজ খাওয়া হচ্ছে না। তবে বাচ্চারা তরমুজ খুব পছন্দ করে বলে কিনলাম। বিক্রেতা আজাদ হোসেন বলেন, অন্য বছরের চেয়ে অনেক আগেই এবার বাজারে তরমুজ এসেছে। আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন অনেক চাষি। আমরাও লাভের আশায় পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করছি। তবে এখনও শীত থাকায় বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে। গরম পড়লে তরমুজ বিক্রি জমবে বলে আশা করছেন তিনি। আগাম জাতের কালা, বাংলালিংক, গ্রামীণ, আনারকলি, অলক্লিন, চায়না-২, এশিয়ান-২, বালিসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ বাজারে ওঠতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলে গরম বেশি পড়লে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। তবে এবার আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকায় লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..