প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আগে থেকে উদ্যোগ নেয়ায় টিকাদান এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সরকার আগে থেকে উদ্যোগী হয়েছিল বলেই মোট জনসখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষকে কভিড টিকা দেয়ার কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। খবর: বিডিনিউজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কভিড প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর পরই সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে বিনা মূল্যে টিকা প্রদানের বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি প্রাপ্তির পূর্ব হতেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ‘তারই ফলস্বরূপ দেশব্যাপী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আট কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৮৩৪ জনকে দ্বিতীয় ডোজ এবং সাত লাখ ৪১ হাজার ২৬৫ জনকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে।

অবশ্য এর পরের ৯ দিনে আরও প্রায় এক কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৩২১ জনকে প্রথম ডোজ এবং পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ ১১ হাজার ৫৩৮ জনকে দ্বিতীয় ডোজ এবং ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৫ জনকে টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি তিন লাখ ১৭ হাজারের বেশি। মহামারি মোকাবিলায় জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ১১ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই বছর ডিসেম্বরে শেষ দিকে সরকার যে পরিকল্পনা করেছিল, তাতে ৮০ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্বের ন্যায় দেশের কভিড মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারও চলমান টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় বুস্টার ডোজ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ, বাংলাদেশের সুপারিশ অনুযায়ী এবং ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে দেশব্যাপী গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ হতে বুস্টার ডোজ শুরু করা হয়। বর্তমানে দেশে ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীগণকে ও বিদেশগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ প্রদান করা হচ্ছে।’