মত-বিশ্লেষণ

আজকের এই দিনে

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার দীনবন্ধু মিত্র । তিনি নাটক লিখেছেন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে, বাংলা নাটকের প্রাথমিক যুগে যা ছিল অপ্রত্যাশিত। বাস্তবধর্মী সামাজিক নাটক রচনা করে তিনি পরবর্তীকালের নাট্যকারদের আদর্শস্থানীয় হয়ে ওঠেন। নীলদর্পণ (১৮৬০) তার শ্রেষ্ঠ নাটক ও শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

নাট্যকার রায় বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন দীনবন্ধু মিত্র। দীনবন্ধু মিত্র বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। কলকাতায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে গৃহভৃত্যেরও কাজ করতে হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কলেজের সব পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পেশা হিসেবে তিনি ডাক বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন। ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করায়  ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘রায়বাহাদুর’উপাধিতে ভূষিত করে। দীনবন্ধু মিত্র কলেজে পড়ার সময় ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে ‘সংবাদ প্রভাকর’, ‘সাধুরঞ্জন’ প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। নীলদর্পণ নাটক প্রকাশের পর ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় নাটক নবীন তপস্বিনী। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন হলো: নবীন তপস্বিনী, বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী , লীলাবতী , জামাই বারিক , কমলে কামিনী  প্রভৃতি।  দীনবন্ধু ছিলেন সমাজকল্যাণনিষ্ঠ শিল্পী। ১৮৭৩ সালের  এই দিনে  তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

১৬০৪   উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক ওথেলো মঞ্চায়িত হয়

১৮৫৮   ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনব্যবস্থা গ্রহণ করে

১৯২৬  ‘সূর্য দীঘল বাড়ীর রচয়িতা ‘সাহিত্যিক আবু ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন

১৯৪৪   আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা গঠিত হয়

১৯৫০  কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুবরন করেন

১৯৮৪   গণসংগীত রচায়িতা নিবারণ পন্ডিত মৃত্যুবরণ করেন

২০০৭  বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা হয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..