শেষ পাতা

আজ নাসিক নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ। দলীয় প্রতীকে প্রথম এই সিটি করপোরেশনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য ইসি সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, নাসিক এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোয় আজ (বুধবার) সকালে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়েছে।

দলীয় প্রতীকে এটি প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় এলাকার ভোটাররা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী।

এ নির্বাচনে ৩৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯৫ প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে সাতজন, ২৭টি ওয়ার্ডে ১৫৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মোট চার লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ ভোটার ১৭৪ ভোটকেন্দ্রের ১৩০৪টি ভোটকক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ৫১৪ এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৮ জন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট হাজার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে যথাযথভাবে পালন করা হয়, সেজন্য প্রতি ওয়ার্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ২৭ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে আরও ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) জন্য ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২২ প্লাটুন বিজিবি ইতোমধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে সাত প্লাটুন কাজ করবে সিদ্ধিরগঞ্জে, বন্দরে পাঁচ প্লাটুন এবং বাকি ১০ প্লাটুন সদরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী দুদিন, ভোটের দিন ও ভোট-পরবর্তী একদিনসহ মোট চার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন, আনসার, র‌্যাব, কোস্টগার্ড এবং বিজিবির মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নির্বাচন উপলক্ষে র‌্যাব সদস্যরা শহরে মহড়া দিয়েছেন। তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশির পাশাপাশি ডগস্কোয়াড নিয়ে টহল দেয়। ওই সময় র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

বুধবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভ এলাকায় মহড়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি উপ-অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নরেশ চাকমা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আশঙ্কা আমরা দেখছি না। আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে অন্যান্য আরও অনেক বাহিনী কাজ করছে। তবে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ২৭ ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ২৭টি টিম কাজ শুরু করছে। এছাড়াও ২৭টি ওয়ার্ডকে তিন জোনে ভাগ করে ৬০০ জন কাজ করবেন। সার্বক্ষণিক কেন্দ্রগুলোয় তারা টহল দেবেন।’

টহলের বিষয়ে গতকাল নরেশ চাকমা বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য এ টহল শুরু হয়েছে। এখানে ১২ পেট্রোল, দুটি বোম্ব ডিসপোসাল ও দুটি ডগস্কোয়াড টিম রয়েছে। যদি কেউ বোমা ও অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে এগুলোর সাহায্যে বের করা সম্ভব। এক পেট্রোলে আটজন সদস্য রয়েছেন। এ অভিযান নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় পরিচালনা করা হবে।’

আলোচিত নাসিক নির্বাচনে ১৭৪ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, এক হাজার ৩০৪ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও দুই হাজার ৬০৮ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।

এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দু’দলই এটিকে তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে দেখছে। এছাড়া নানা কারণে সমালোচনার মুখে পড়া কাজী রকিবউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন তাদের শেষ নির্বাচন কীভাবে শেষ করে, সেটি নিয়েও রয়েছে সাধারণ মানুষের আলাদা দৃষ্টি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি তা জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খান  দুজনই জয় প্রত্যাশা করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, মেয়র থাকা অবস্থায় যে উন্নয়ন করেছি, তার ধারাবাহিকতা রাখতে জনগণ আমাকে আবার নির্বাচিত করবে। কারণ আমি উন্নয়নে বিশ্বাসী। কারও চাটুকারিতায় নয়।

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নীরব ভোট রয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) ব্যালটের মাধ্যমে তার প্রমাণ হবে। আমার বিশ্বাস, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ভোটাররা তা করবেন।

 

 

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..