মত-বিশ্লেষণ

আঞ্চলিক রাজনীতি ও শান্তি

মাহমুদুল হক আনসারী: আঞ্চলিক রাজনীতিতে শান্তি স্থিতিশীলতা ছাড়া জনশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ অভুদ্যয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের শান্তি আশা করে থাকে। শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গে বন্ধুসুলভ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে শান্তিপ্রিয় ও অতিথিপরায়ণ। এ দেশের মানুষ পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী মানুষের সুখ-শান্তি স্থিতিশীল পরিবেশ কামনা করে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করে না। জোর-জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক, সামাজিক ও স্থিতিশীল পরিবেশকে নস্যাৎ করতে কিছু কুচক্রী মহল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করেই চলছে। এদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নাগরিক চাহিদা ক্রমেই উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে; যা পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এদেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করতে চক্রান্ত করেই চলছে। পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ মধুর কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাইলেও তারা এদেশের অব্যাহত অগ্রগতি সহ্য করছে না। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদকের প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থির ও স্থিতিশীল রাজনীতি ধ্বংস করতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের রাজনীতির কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে সেটাই সচেতন বিশ্লেষক মনে করছে।
মিয়ানমার সরকারের ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নাগরিকের বাংলাদেশে পুশব্যাক এদেশকে অস্থিতিশীল করার একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র। তাদের সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার যোগাযোগ ও প্ররোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উচ্ছৃঙ্খল করার ষড়যন্ত্র বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তের অপকৌশল বোঝা যায়। ওইসব এনজিওর পেছনে আন্তর্জাতিক দেশের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণে স্বভাবতভাবেই মুসলমানদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়াটা অস্বাভাবিক দোষের কিছু নয়। সে কারণে রোহিঙ্গাদের পাশে মানবিক কারণে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল। কাশ্মীরের স্বাধীন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার যখন খর্ব হয়, তখন সে অবস্থায় বাংলাদেশের নাগরিক তাদের পক্ষে মানবাধিকার রক্ষার দাবি করছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের নানাভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদ করে থাকে বাংলাদেশের মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে আসামে ২০ লাখের মতো নাগরিককে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কয়েক যুগ থেকে তারা সেখানে জš§ আর মৃত্যু ভোটের মাধ্যমে সে দেশের নাগরিক হয়ে এতদিন বসবাস হয়ে এলেও ৩১ আগস্ট তাদের সে অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রহীন নাগরিক হিসেবে তাদের আলাদা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু, কাশ্মীর সমস্যা, আসামের মানুষের নতুন করে সংকট বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণের জন্য একটি মহাসংকট। স্বাভাবিক কারণে বাংলাদেশের জনগণ ওইসব মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে কথা বলবে। এটা আঞ্চলিক সমস্যা ও প্রতিবেশী সুখ-শান্তির প্রতিবন্ধক।
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে এ অঞ্চলের মুসলমানদের ওপর নানাভাবে খবরদারি ও নির্যাতন-নিপীড়ন বাড়ছে। মুসলমানদের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। কাশ্মীর সেভাবে এখন জ্বলছে। সে এলাকার মুসলমান নাগরিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
আসামের ২০ লাখের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক মুসলমানকে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে তাদের নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে। এভাবে এ অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ধর্মীয় কারণে বিষাক্ত হয়ে উঠছে। যেখানে মুসলমানরা আছে, সেখানে নানাভাবে মুসলমানদের ওপর সে দেশের শাসক গোষ্ঠী জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। ধর্মীয় হানাহানি বেড়ে চলছে। এসব কারণে এ অঞ্চলের রাজনীতি, অর্থনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। ধর্মীয় শৃঙ্খলা সম্প্রীতি অধঃপতনের পথে ধাবিত হচ্ছে। এসবের কারণ ও প্রতিকার এ অঞ্চলের নেতৃত্বের মধ্যে রয়েছে। যারা লিডারশিপ আছেন, দেশ শাসন করছেন তাদেরই এসব বুঝতে হবে। ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু নির্যাতন-নিপীড়ন করে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মুক্ত স্থিতিশীল পরিবেশ ধরে রাখা যায় না। নেতৃত্বকেই প্রথমে ঠিক হতে হবে। নেতা বিশুদ্ধ না হলে দেশ জনগণ কখনও শৃঙ্খলা ও শান্তি পাবে না। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা রাখতে হলে নেতৃত্বকেই বিশুদ্ধ ও আন্তরিক হতে হবে। আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে নেতৃত্বকে কাজ করতে হবে। উগ্র নেতৃত্ব কখনও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। অতীত নেতৃত্ব ও রাজনীতি পর্যালোচনা করলে সেটাই দেখা যাবে।
বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় গণতান্ত্রিক ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে চলতে চায়। কিন্তু সেটাকে অনেকেই দুর্বল হিসেবে দেখে বাংলাদেশের ওপর অনেক কিছু অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড চেপে দিয়ে দেশকে অস্থির করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে মনে হয়। এদেশের জনগণ চায় আঞ্চলিক স্থিতিশীল পরিবেশ। ধর্মীয় উগ্রতা হানাহানির মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে। শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল দেশের জন্য অবশ্যই গঠনমূলক রাজনীতি চাই। জোর-জবরদস্তি ও চেপে দেওয়ার রাজনৈতিক কূটকৌশল পরিহার করতে হবে।

ফ্রিল্যান্স লেখক, গবেষক
[email protected]il.com

 

সর্বশেষ..