প্রতিনিধি, গাজীপুর : সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের টঙ্গীর মৈত্রী শিল্প ইউনিটে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, দুর্নীতি, অরাজকতা ও অসদাচরণের অভিযোগে একযোগে আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মৈত্রী শিল্পের নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) কাজী মাহবুব উর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২৮ অক্টোবর মৈত্রী শিল্পের ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ও নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেনÑকারখানা ব্যবস্থাপক মো. মহসিন আলী, বিক্রয় প্রতিনিধি সালমান শাহরিয়ার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফারজানা আক্তার দীপ্তি, কামরুন নাহার শান্তা, অডিট অফিসার সৈয়দ মো. ওশিউর রহমান, প্ল্যান্ট সুপারভাইজার মো. রিয়াজ উদ্দিন, মেশিন অপারেটর মো. আব্দুস সামাদ, সহকারী কেমিস্ট মো. আসাদুল হক প্রমুখ।
প্রজ্ঞাপনগুলোয় বলা হয়, বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑদুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপ, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম, উৎপাদন বন্ধে উসকানি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করা, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মানহানি, প্রতিষ্ঠানে গ্রুপিং ও অরাজকতা সৃষ্টি, তদন্ত কার্যক্রমে বাধা, হুমকি ও নথি ছিনিয়ে নেয়া।
অডিট প্রতিবেদনে শুধু কারখানা ব্যবস্থাপক মো. মহসিন আলীর বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি ৬২ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া বিক্রয় প্রতিনিধি সালমান শাহরিয়ার ও অফিস সহকারী ফারজানা আক্তার দীপ্তি নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মানহানি ও কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে মেশিন অপারেটর আব্দুস সামাদ ও সহকারী কেমিস্ট আসাদুল হক তদন্ত চলাকালে কর্মকর্তা ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের উসকে দিয়ে হামলার চেষ্টা, সরকারি গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অডিট অফিসার সৈয়দ ওশিউর রহমান, প্ল্যান্ট সুপারভাইজার রিয়াজ উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কামরুন নাহার শান্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে গ্রুপিং, প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য ও অরাজকতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) এবং ‘মৈত্রী শিল্পের চাকরি বিধি (সংশোধিত), ২০০৫’-এর বিধি ৫৮ অনুযায়ী অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বরখাস্তদের বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা প্রদান করা হবে।
প্রজ্ঞাপনগুলোয় আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের আচরণ ‘অশোভন, অসংগত ও চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থি’, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থানের পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।
নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহবুব উর রহমান বলেন, মৈত্রী শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যারা দায়িত্বে থেকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বা কর্মস্থলে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেন, জনস্বার্থে এই আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর করা হলো।
এ পদক্ষেপকে মৈত্রী শিল্পে চলমান প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমন অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post