প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আট দেশে তুর্কি পণ্যের রেকর্ড রপ্তানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বের আট দেশে গত মে মাসে তুরস্কের পণ্যের রেকর্ড রপ্তানি হয়েছে। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ও বৈচিত্র্য আনতে কাজ করছেন। খবর: ডেইলি সাবাহ।

সেনেগাল, দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক, নর্থ মেসিডোনিয়া, রুয়ান্ডা, তাজিকিস্তান, ক্যামেরুন, কোস্টা রিকা ও মন্টিনিগ্রো মে মাসে তুরস্কের রেকর্ড পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে। তার্কিশ এক্সপোর্টারস অ্যাসেম্বলির (টিআইএম) বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ। এই আট বাজারে বার্ষিক পর্যায়ে বিক্রি বেড়েছে ৮০ থেকে ৬০০ শতাংশ, এ তথ্য দিয়েছে তুরস্কের রপ্তানিকারকদের সংগঠন।

এই ধারা ধরে রাখার জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড ও পণ্যের প্রসারে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বিকল্প বাজার ও বিক্রি বাড়াতে অন্যান্য অঞ্চলে বাজার সৃষ্টি করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশটির রপ্তানিকারকরা চলতি জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত রপ্তানি বাণিজ্যে রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছেন। গত ১২ মাসের রপ্তানিতে তাদের আয় হয়েছে ২৪ হাজার ২৬০ কোটি ডলার।

২০২১ সালে দেশটি রপ্তানি আয় করে ২২ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার, যা চলতি বছর ২৫ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে আশাবাদী সরকার ও অর্থনীতিবিদরা। কর্তৃপক্ষ বছর শেষ হওয়ার আগেই এ ব্যাপারে আশাবাদী। জানুয়ারি থেকে মে মাসে বছর ভিত্তিতে বিক্রি বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ (১০ হাজার ২৫০ কোটি ডলার)। এ সময় আমদানি বাড়ে ৪১ শতাংশ (১৪ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার)।

টিআইএম এক পরিসংখ্যানে জানায়, মে মাসে বছর ভিত্তিতে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বা এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এক বছর আগে আমদানি বাড়ে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ বা দুই হাজার ৯৭০ কোটি ডলার, যা জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়। এতে দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেয়। গত মাসে ৬৯০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি করে দেশটি। এ কারণে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে এক হাজার ৭০ কোটি ডলার। এ হিসাবে এক বছর আগের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৫৭ শতাংশ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের পর থেকে বিশ্বে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এ কারণে অন্য অনেক দেশের মতো তুরস্কও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অবমূল্যায়ন হয়েছে দেশটির মুদ্রা লিরার। মে মাসে সেনেগালে তুরস্কের রপ্তানি বাড়ে ১৯০ শতাংশ (আট কোটি ৭২ লাখ ডলার), ডমিনিকান রিপাবলিকে এ হার ৬২৯ শতাংশ (সাত কোটি ১২ লাখ ডলার) এবং নর্থ মেসিডোনিয়ায় ৮৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ছয় কোটি ৬৫ লাখ ডলার। রুয়ান্ডায় বেড়েছে ৮২১ শতাংশ বা তিন কোটি ২০ লাখ, তাজিকিস্তানে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা তিন কোটি ১৫ লাখ ও ক্যামেরুনে ২১১ শতাংশ বা তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার। একই মাসে কোস্টারিকায় বেড়েছে ৪০৩ শতাংশ বা দুই কোটি ৪০ লাখ, যা মন্টিনিগ্রোয় ছিল ২০০ শতাংশ বা দুই কোটি ৮২ লাখ ডলার।

দেশগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে বেড়েছে ইস্পাত রপ্তানি। সেনেগালের আমদানিকৃত মোট ইস্পাতের অর্ধেক এসেছে তুরস্ক থেকে, ডমিনিকান রিপাবলিক এ সময় তাদের চাহিদার ৮৬ শতাংশ ইস্পাত আমদানি করেছে। অন্য দেশগুলোর মধ্যে নর্থ মেসিডোনিয়া, ক্যামেরুন ও কোস্টারিকায় ইস্পাত রপ্তানি বেড়েছে তুরস্কের। এ সময় তুরস্ক থেকে রুয়ান্ডা দুই লাখ ডলারের পণ্য কিনেছে। তাজিকিস্তান ও মন্টিনিগ্রো কিনেছে যথাক্রমে দুই লাখ ৬৯ হাজার এবং দুই লাখ ৯১ হাজার ডলারের পণ্য।

তুরস্কের শহরগুলোর মধ্যে আট দেশে বেশি পরিমাণে রপ্তানি করেছে ইস্তানবুল। মে মাসে এ শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য শহরগুলোর তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে।