প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক; দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আবার সেটি শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতেও শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২২ সালের মে মাসে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৭ টাকা ৪২ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। অর্থাৎ মে মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের মে মাসে যে খাদ্য পণ্য বা খাবারের জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, চলতি বছরের মে মাসে সেই খাবারের জন্য ১০৮ টাকা ৩০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। এর অর্থ হলো, এ মাসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত ৮ বছরের মধ্যে দেশে এটাই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে কমেছে। মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

মে মাসে শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়েছিল। অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি দামে জিনিসপত্র কিনতে হয়েছে। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ আর গ্রামে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতেও শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি। খাদ্য খাতে শহরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য খাতে বেড়েছে আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে কিছুটা কমেছে। গত এপ্রিল মাসে গ্রামে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। শহরে খাদ্য খাতে এপ্রিলে ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। শহরে এপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে কমেছে। 

গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল। এপ্রিলে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ হার পাওয়া গেল গত মে মাসে। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল রোববার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, মে মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এপ্রিলে যা ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর মূল্যস্ফীতি কখনই এতটা বেশি হয়নি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ হার ১০ শতাংশের আশপাশে হয়ে গিয়েছিল। তবে সেটি কমে আসে পরে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক মাসে বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। মে মাসে এই হার হয়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। এপ্রিলে যা ছিল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গত কয়েক মাসের মতো গ্রামে শহরের চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে হয়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ। ওই বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

২০১২-১৩ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশে নেমে আসে। ওই বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর থেকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক নিন্মমুখীই ছিল।