দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

আট মাসে ২৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

হিলি শুল্কস্টেশন

রহমত রহমান: রংপুরের হিলি স্থলবন্দর ও শুল্কস্টেশনে বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়ছে রাজস্ব আদায়ও। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। শুধু তাই নয়, অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) হিলি শুল্কস্টেশনে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৪ শতাংশ।

আর গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় আট মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬২ শতাংশ। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি, নজরদারি বৃদ্ধি ও দ্রুত পণ্য খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দরমুখী হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে অর্থবছর শেষে এ স্টেশনে গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হবে।

হিলি শুল্কস্টেশন সূত্রমতে, হাকিমপুরের হিলিবন্দর দিয়ে পাথর, চাল, তোকমা, ইসবগুল ভুষি, বাদাম, কাঁচামরিচ, আদা, ভুট্টা, গম, জিরা, রাইস ব্রান, খৈল, পেঁয়াজ, স্যান্ডস্টোন, কোদাল, ক্লে পাউডার, ফিশ মিল ইনগ্রিডিয়েন্ট, শুঁটকি, চায়না ক্লে, সয়াবিন আমদানি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় চাল ও পাথর। এ পর্যন্ত হিলি বন্দর দিয়ে মোট ৭০ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন (১৭৩৫ গাড়ি) চাল আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে খালাস হয়েছে ৬৬ হাজার ৪১৮ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন (১৬১১ গাড়ি)। এখনও খালাস হয়নি চার হাজার ৫৪১ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন চাল।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৮ মাসে এ স্টেশনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২০ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। যেখানে লক্ষ্য ছিল ১৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যের তুলনায় ২৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। লক্ষ্যর তুলনায় রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৪ শতাংশ। আর গত অর্থবছর একই সময় (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরের আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৪ কোটি ৬০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় আট মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬২ শতাংশ।

হিলি শুল্কস্টেশনের হিসাবমতে, চলতি ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। জুলাইয়ে আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা বেশি। আগস্টে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের আগস্টের তুলনায় ১১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা বেশি।

সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৬৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ছয় কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বেশি। অক্টোবরে আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ৬৮ লাখ ২২ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের অক্টোবরের তুলনায় ছয় কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা বেশি। নভেম্বরে আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের নভেম্বরের তুলনায় আট কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বেশি। ডিসেম্বরে আদায় হয়েছে ২২ কোটি ২১ লাখ এক হাজার টাকা, যা গত অর্থবরের ডিসেম্বরের তুলনায় দুই কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা কম। জানুয়ারিতে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যা গত অর্থবছরের জানুয়ারির চেয়ে চার কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা কম।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দ্রুত পণ্য খালাস হচ্ছে। কোনো ধরনের হয়রানি নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের আস্থা তৈরি হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি বাড়লে রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বন্দর ও শুল্কস্টেশনের যন্ত্রপাতি, জনবল বৃদ্ধি, সড়ক সংস্কার করার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে হিলি শুল্কস্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম রুবেল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে বন্দর পরিচালনা ও দ্রুত সময়ে পণ্য খালাস হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ কমে আসছে। ফলে ব্যবসায়ীদের এ বন্দরের প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আমরা নজরদারি বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছি। যার ফলে রাজস্ব বাড়ছে।’

রংপুর ভ্যাট কমিশনার শওকত আলী সাদী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হওয়া সেজন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি বাড়ছে। বিশেষ করে পাথর ও চাল আমদানি বেড়েছে। যার ফলে রাজস্ব বাড়ছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..