সারা বাংলা

আড়াই মাসেও পিসিআর মেশিন চালু করতে পারেনি সামেক

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ আড়াই মাসেও স্থাপিত হয়নি করোনাভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর মেশিন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ সাতক্ষীরা ও মানিকগঞ্জ জেলার জন্য দুটি পিসিআর মেশিন হস্তান্তর করে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ জেলায় এক মাসের মধ্যে সেটি চালু করে নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সাতক্ষীরা মেডিকেলের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে চলতি শীত মৌসুমে করোনা পরীক্ষা নিয়ে জেলার ২৫ লাখ মানুষের দুর্ভোগে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, গত মার্চ থেকে দেশে যখন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন থেকেই জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৪টি মেডিকেল কলেজকে গত সেপ্টেম্বরে পিসিআর ল্যাব বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেলও অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের মেশিন ও সরঞ্জাম গ্রহণ করে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র জানায়, পিসিআর মেশিন গ্রহণের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। তিনি সাতক্ষীরায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ জেলায় যদি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে কার্যক্রম করতে না পারা যায়, তবে সেটি অন্য জেলায় বরাদ্দ দেয়া ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কিন্তু এর পরও এ পর্যন্ত পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো জোরালো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি, যে কারণে গত ২২ নভেম্বর সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আয়োজনে জেলার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা দ্রুত ল্যাব চালু করে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

জানা গেছে, করোনা মহামারির শুরুতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানে করোনা পজিটিভ ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। অনেকে মনে করছেন, এ সংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব হতো যদি মেডিকেল কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৪টি মেডিকেল কলেজকে গত সেপ্টেম্বর মাসে পিসিআর ল্যাব বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা আইইডিসিআর থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মাসে সেটি সংগ্রহ করেছি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের চারটি রুমও বরাদ্দ করা হয়েছে। সেটি স্থাপন করার জন্য অর্থ না থাকায় অন্য খাত থেকে অর্থ এনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে।’ স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর কাজ শেষ করলে পরীক্ষার কাজ দ্রুত শুরু করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) মো. আসাদুল্লাহ জানান, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেটা ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর হয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের হেড অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হবে। তারপর মূল্যায়নসহ আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে এখানে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়তো এক মাস সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

এ অবস্থায় চলতি শীত মৌসুমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে করোনা পরীক্ষা শুরু করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন জেলার অনেকে।

সাতক্ষীরা জেলা করোনা-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পিসিআর মেশিন এলেও অর্থ বরাদ্দ না থাকা এবং নানা জটিলতায় ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এরই মধ্যে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..