সুশিক্ষা

আদর্শ শিক্ষক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার

গবেষক ও শিক্ষানুরাগী একজন আলোকিত মানুষ তিনি। ছাত্রবান্ধব মানুষটি সমাজের জন্য নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করার মহান ব্রত নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যাপনা করছেন তিনি।
শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে সমাজ, দেশ ও একটি শিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে দিনরাত অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি। সব শ্রেণির মানুষকে নিমিষেই আপন করে নেওয়ার গুণ রয়েছে তার মধ্যে। তিনি সবার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন খোলা মনে।
বিনয়ী শিক্ষক হিসেবে ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ ড. প্রভাষ। শিক্ষকতাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন। ১৯৭২ সালের ১৫ জুন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামের রঞ্জন কুমার কর্মকার ও দুলালী রাণী কর্মকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তী সময়ে হরিণাকুণ্ডু পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৮৯ সালে কে সি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে এ বিভাগ থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। একই বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও প্রথম স্থান অধিকার করেন।
২০০৯ সালে তিনি Investigating the Interrelationship among the Various Factors in Boro Rice Production of Bangladesh শিরোনামে ইকোনোসেন্টির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের প্রভাষক পদে যোগ দেন। ওই একই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি বিশ্বের কয়েকটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রশিক্ষকের দায়িত্বেও রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে আবাসিক হলের শিক্ষক, সহকারী প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সংগঠন ও বাংলাদেশ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য। তার হাত ধরে নিজ বিভাগের চার শিক্ষার্থী পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
প্রবীণ এ গবেষকের এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭টি প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্মানি থেকে  The Impact of Contributory Factors on Boro Rice Production নামে তার একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। ২০১২ সালে গবেষণায় অবদানের জন্য মালয়েশিয়ার ইউপিএম থেকে ‘ঊীপবষষবহঃ চবৎভড়ৎসধহপব অধিৎফ ২০১২’-এ ভূষিত হয়েছেন তিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ক্যাটেগরিতে অর্জন করেন কয়েকটি স্বর্ণ পদক।
ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল নিজেকে শিক্ষার জন্য উৎসর্গ করা। আজকের এ অবস্থানে আসার পেছনে তিনি পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবসময় নিজের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জীবনের সাফল্যে সবাই সঙ্গী হতে চাইলেও ব্যর্থতার দায় নিজেকেই বহন করতে হয়। তাই সফল জীবন পেতে আত্মবিশ্বাসের কোনো বিকল্প নেই।
ছোটবেলা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে টেলিভিশন, কম্পিউটার গেমস প্রভৃতি ছিল না সত্য, কিন্তু আমাদের বাল্যকাল যে বিষাদময় ছিল তাও নয়। খুব বেশি মনে পড়ে এ বয়সে এসে ছোটবেলার দিনগুলো। গ্রামের সেই মেঠো পথ, দলবেঁধে স্কুলে যাওয়া নানা স্মৃতি মনে পড়ে এখন। শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আত্মবিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি সময়ের কাজ সময়ে করেছি। জীবনগঠনে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি সমাজসচেতনতামূলক নানা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

আসিফ হাসান রাজু

সর্বশেষ..