প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আদালতের স্থগিতাদেশ আটকে গেলো তোশিবার চিপ ইউনিট বিক্রি

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা জাপানি প্রতিষ্ঠান তোশিবার চিপ ইউনিট বিক্রি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানুফ্যাকচারিং অংশীদার ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল করপোরেশনের করা মামলায় ২৮ জুলাইয়ের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বিক্রি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। খবর ব্লমবার্গ।

চিপ ইউনিট বিক্রি করতে তোশিবার প্রক্রিয়া চলছিল এবং চুক্তিরও কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এমন সময় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল তোশিবার মেমোরি চিপ বিভাগ বিক্রিতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়। ফলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নিলাম নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দেয়। ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের দাবি, উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে তোশিবার মূল চিপ কারখানা। বিভাগটি ক্রয়ে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এর আগে মেমোরি চিপ বিভাগ বিক্রিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ করায় শতকোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের বিরুদ্ধে মামলা করে জাপানভিত্তিক তোশিবা।

শুক্রবার এ দুই প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সুপেরিয়র কোর্টে হাজির হয়। তোশিবাকে দুই সপ্তাহ আগে ওয়েস্টার্ন ডিজিটালকে বিক্রির অগ্রিম নোটিশ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন আদালত। আর আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বিক্রি স্থগিত রাখতে বলেছেন।

বিবৃতিতে তোশিবা জানায়, তারা ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের সঙ্গে গঠিত যৌথ ভেঞ্চার থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে ভাবছে। পাশাপাশি ইয়োকাইচি চিপ কারখানায় সব কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ যৌথভাবে পরিচালিত এ কারখানার বেশিরভাগ কর্মীই ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তোশিবার চিপ বিভাগ বিক্রিতে জাপান সরকারের নেতৃত্বে গঠিত গ্রুপে ওয়েস্টার্ন ডিজিটালকে রাখা হয়নি। এতে করে বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের দাবি, চুক্তির ভিত্তিতে সৃষ্ট অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে গিয়ে সব কিছু করছে তোশিবা। তোশিবার চিপ ইউনিট বিক্রিতে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলায় প্রতিষ্ঠানটি দাবি জানিয়েছিল, অন্তত তোশিবার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির শুনানি হওয়া পর্যন্ত যাতে এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকে।

তোশিবার চিপ বিক্রিতে নিলাম ডাকা হয়েছিল। এ ইউনিট কিনতে তাইওয়ানিজ প্রতিষ্ঠান ফক্সকনের সঙ্গে নিলামে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ছিল অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

ফক্সকন চেয়ারম্যান টেরি গৌর জানিয়েছির, ‘মার্কিন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের তহবিলে চিপ যোগ করার পরিকল্পনা করছে।’

২০১৫ সালে হিসাব জালিয়াতির ঘটনার পর নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে তোশিবার ব্যবসা। এ ঘটনায় কয়েক শ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

ওই ঘটনার পর বারবার ব্যবসায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি তোশিবা। আগের বকেয়া পরিশোধ করতে ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ইউনিটে বিনিয়োগ করতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়ের কিছু অংশ বিক্রি করার ঘোষণা দেয়।