দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আধুনিকায়নের পরও পিছিয়ে পড়ছে ডেল্টা স্পিনার্স

রাইট শেয়ার ইস্যুর সুফল নেই

পলাশ শরিফ: রাইট শেয়ার ছেড়ে ২০১৪ সালে পুঁজিবাজার থেকে ৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে ডেল্টা স্পিনার্স। রাইটের টাকায় কারখানার আধুনিকায়ন, নতুন স্পিনিং ইউনিট স্থাপন ও ব্যাংকের মেয়াদি ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। এতে কোম্পানিটির আয়-মুনাফা বাড়বে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বিপরীতে হাঁটছে কোম্পানিটি। রাইটের অর্থ ব্যয়ের পরও কোম্পানিটির আয়-মুনাফা বাড়ছে না। বরং আর্থিক সংকটে রয়েছে ডেল্টা স্পিনার্স। দুই বছর ধরে হালনাগাদ তথ্যও দিচ্ছে না কোম্পানিটি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের আগস্টে একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি হিসেবে ছয় কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৪০০টি রাইট শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৯১ কোটি ৭২ লাখ ৫৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। ওই টাকা থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়ার স্পিনিং কারখানার আধুনিকায়নে ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু পরে নতুন ওয়েভিং প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যয় কমিয়ে ১৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি আমদানির জন্যই ওই অর্থ ব্যয় দেখিয়েছে কোম্পানিটি। কিন্তু রাইটের অর্থ ব্যয়ের পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি-ই দৃশ্যমান।

রাইট শেয়ার ইস্যুর সময় বস্ত্র খাতের কোম্পানি ডেল্টা স্পিনার্সের আয় প্রায় ১৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ছিল। আর সব ধরনের ব্যয় ও দায়-দেনা মেটানোর পর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল প্রায় ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। রাইটের অর্থ ব্যয়ের পর ২০১৭ সালের জুন শেষ হওয়া আর্থিক বছরে প্রায় ১০৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ ‘কথিত’ আধুনিকায়নের পরও সুতা উৎপাদন-বিক্রি কমেছে। এর প্রভাবে কর-পরবর্তী মুনাফাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ওই বছরে প্রায় চার কোটি ৩৭ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা দেখিয়েছে ডেল্টা স্পিনার্স। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যয় করার পরও কোম্পানিটির মুনাফা আগের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। যে কারণে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নগদের বদলে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে ডেল্টা স্পিনার্স।

এদিকে রাইটের অর্থ ব্যয় নিয়ে জটিলতা এড়াতে ২০১৭ সালের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের সঠিক সময়ে আয়-মুনাফার তথ্য দিচ্ছে না ডেল্টা স্পিনার্স। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেছে কোম্পানিটি। এরপর থেকে অদ্যাবধি নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এরপর দুটি আর্থিক বছর পেরোলেও লভ্যাংশ বা এজিএমের ঘোষণা আসেনি। ওই দুই বছরে আর্থিকভাবে আরও নাজুক অবস্থানে পড়ার কারণেই তথ্য প্রকাশ ও এজিএম করছে না বলে তথ্য মিলেছে। কোম্পানিটির দায়িত্বশীলরাও এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন না।

রাইট শেয়ার ইস্যু-পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে ডেল্টা স্পিনার্সের নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. মাসুদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রাইটের অর্থ বিএসইসির অনুমতি নিয়ে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এরপর থেকে কেন আয়-মুনাফা কমছে সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। গত দুই বছরের এজিএমের জন্য আমরা আদালতের অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি পেলে সেই অনুযায়ী বাকি এজিএমগুলো করা হবে। আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হবে। সেখানেই সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন। আগে থেকে আমি কিছু বলতে চাই না।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডেল্টা স্পিনার্স ২০১০ সালেও একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিল। ওই অর্থে গড়ে তোলা সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেল্টা সিরামিকও ডেল্টা স্পিনার্সের আয়-মুনাফা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। একইভাবে ২০১৪ সালের রাইটের পর সেই অর্থ ব্যয় ও আয়-মুনাফায় পিছিয়ে পড়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রয়েছে কোম্পানিটি। বিতর্ক এড়াতেই তথ্য প্রকাশ করছে না বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..