সুশিক্ষা

আনন্দ বিষাদে চবি লোক-প্রশাসন বিভাগের ৩৫ ব্যাচের বিদায়

আনন্দ ও বিষাদে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদের লোক-প্রশাসন বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের বিদায়ী অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী লোক-প্রশাসন বিভাগের ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য কালার ফেস্টের আয়োজন করা হয়।

সকালে কেক কাটার পর শুরু হয় ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান ‘র‌্যাগ ৩৫।’ উদ্বোধন করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমির মো. নসরুউল্লাহ। এরপর বিভাগ থেকে বের করা হয় র‌্যালি। র‌্যালিটি চবি’র বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে লোক-প্রশাসন বিভাগে এসে শেষ হয়।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ৩টায়। এ সময় স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আমির মো. নসরুউল্লাহ ব্যাচের ধারাবাহিকতায় সুশৃঙ্খল ও সুন্দর র‌্যাগ আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা সম্পন্ন করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে কবিতা, মাইম, নাচ ও কোরাস গানে অংশ নেয় বিভাগের নানা ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এরপর ‘দ্য ইনসিস্ট’, ‘মেট্রিকাল’ ও ‘দ্য ট্রি’ ব্যান্ড দল পরিবেশন করে ব্যান্ডসংগীত। এ সময় অতিথি গায়ক ছিলেন ক্রোফেৎজ ব্যান্ডের ভোকাল তানিম হাসান।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়, সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী সানজীদা আজিজ বলেন, সকালে কেক কাটলাম, র‌্যালি করলাম, ছবি তুলেছি, রং মেখেছি। আজ আমাদের শেষ দিন; এরপর হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না। আমাদের পাঁচ বছরের জার্নি ছিল। সবাই একসঙ্গে ছিলাম। সবাই যখন একত্রিত হলাম, তখন আবার ফার্স্ট ইয়ারের কথা মনে পড়ে গেল। মজা করেছি, কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই এক।

আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুবিন বলেন, বিদায় সব সময় কষ্ট ও বেদনার। গত পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম পরিবারের মতো। আমরা গর্বিত যে, লোক-প্রশাসন বিভাগে পড়তে পেরেছি। আমাদের বিভাগের ৪০ বছরের ঐতিহ্য আছে। এ বিভাগের সিনিয়ররা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাহায্যে শিক্ষণীয় পরিবেশে এ পর্যন্ত এসেছি, মাস্টার্স প্রায় শেষের পথে। আশা করি আমরা ভালো একটি জায়গায় পৌঁছাতে পারব।

অধ্যাপক ড. আমির মো. নসরুউল্লাহ বলেন, পাঁচ বছর তারা আমাদের সঙ্গে ছিল, আজ বিদায় হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা আমাদের কাছে সন্তানতুল্য। সে যে ধর্ম-বর্ণেরই হোক না কেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করি। তাদের বিদায় দিতে গিয়ে আমরা খুবই ভারাক্রান্ত। এ ব্যাচটি আসলে অন্যান্য ব্যাচের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। তারা শুধু  লেখাপড়া নয়, কালচারাল ও এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিতেও ভালো। শিক্ষক বা অভিভাবক হিসেবে আশা করব, পাস করে তারা যেন দেশকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই এরই মধ্যে অনেকের ভালো চাকরি হয়েছে। আজকের এ দিনে তাদের জন্য শুভ কামনা থাকল। তারা যেন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের সেবা করতে পারে।

অনুষ্ঠানটি স্পনসর করেছে কেআর স্টিল, এম ট্রাস্ট (প্রা.) লিমিটেড ও নওয়াব ডাইনস। ফটোগ্রাফি স্পনসর ছিল নট ফটোগ্রাফি। মিডিয়া স্পনসর ছিল দৈনিক শেয়ার বিজ।

  মোহাম্মদ আলী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..