আনোয়ারায় ইলিশে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল

এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): ইলিশের ভরা মৌসুমে খরা কেটেছে জেলেদের। পূর্ণিমা আর জো- সব মিলে জেলেদের জালে এখন শুধুই ইলিশ। আনোয়ারা গহিরা, রায়পুর সাগর উপকূলজুড়ে এখন ইলিশ আর ইলিশ। সেই সঙ্গে উপকূলে ধুম পড়েছে ইলিশ কেনাবেচার। এ মৌসুমে এক শ্রেণির জেলে আর আড়তদাররা মিলে ইলিশে মেশাচ্ছে প্রাণঘাতী ক্ষতিকারক ইউরিয়া ও গ্লিসারিন।

সরজমিনে দেখা গেছে, জেলেরা ট্রলার থেকে মাছ এনে স্থানীয় আড়তদাতাদের কাছে বিক্রি করেন। পরে তারা নগর ও উপজেলা থেকে ছুটে আসা ক্রেতাদের কাছে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে। আর প্রতিদিন সাগর পাড়ের তরতাজা ইলিশ কিনতে ভোরবেলা ও গভীর রাতে উপকূলে শত মানুষ উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসছে। এসব ক্রেতার চোখে ইলিশকে তরতাজা ও অধিক সময় সংরক্ষণ করতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর এ কেমিক্যাল।

সামনে ইলিশ ধরার ওপর আসছে নিষেধাজ্ঞা। তার আগে দীর্ঘদিন ধরে মাছ সংরক্ষণ করে বেশি মুনাফার লোভে ক্ষতিকারক এ কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেমিক্যাল মেশানো এ মাছ কিনে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

দেখা গেছে, সাগর থেকে জেলেরা মাছ উপকূলে আনার পর কেনেন আড়তদাররা। পরে এক ধরনের পাউডার ও ক্রিম জাতীয় বস্তুর সঙ্গে পানিতে মিশ্রণ মাছে লাগিয়ে বরফে সংরক্ষণ করা হয়। গভীর সাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে তিন থেকে চার দিন ট্রলারে মাছ বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করার পর তার রং বিকৃতি ঘটে আর সেসব মাছের ক্রেতা আকর্ষণ থাকে না।

ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্লিসারিন ও কেমিক্যাল মেশানো পানিতে ভিজিয়ে ওই মাছ তাজা ও চকচকে করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে বলেন, মাছ অনেকদিন ট্রলারে থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। এসব মাছ ঘাট এলাকায় বিক্রি করতে এ উপায়ে তাজা রাখা হয়। এ ধরনের মাছ দেখতে চকচকে হয়। ক্রেতারা সহজে ধরে নেন, এ মাছ কিছুক্ষণ আগে শিকার করা হয়েছে। কিন্তু দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই, এতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো হয়েছে।

ইলিশে বিষাক্ত রাসায়নিক ইউরিয়া ও গ্লিসারিন মেশানোর বিষয়টি নজরদারি করছেন কি নাÑজানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এসব অবৈধ উপায়ে কেউ জাতে মাছ বাজারজাত করতে না পারে তার জন্য আমরা কঠোর নজরদারি শুরু করব।

সর্বশেষ..