আনোয়ারায় উপকূলজুড়ে জেলেদের কান্না

এনামুল হক নাবিদ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ৬০০ ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশের আশায় নেমেছিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১০ হাজার জেলে। তবে জালে ইলিশ না মেলায় খুলেনি তাদের কপাল। এতে লোকসানে পড়েন তারা। তবে প্রায় এক মাস অপেক্ষার পর ইলিশের ভরা মৌসুমের খরা কাটিয়ে ধীরে ধীরে জেলেদের জালে ধরা দিতে থাকে ইলিশ। শুরু হয় উপকূলের ঘাটে ঘাটে ইলিশ উৎসব। জেলেদের মুখে ফুটে তৃপ্তির হাসি।

তবে সে হাসিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ মা ইলিশ প্রজনন নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এজন্য আবার ইলিশ পল্লিতে নেমে এসেছে খরা। ধার-দেনা করে সাগরে বোট নামিয়ে শ্রমিকের বেতনসহ অনেক লোকসানে রয়েছে বলে জানান বোট মালিকরা। ফলে উপজেলার উপকূলীয় এলাকাজুড়ে জেলে পরিবারগুলোয় চলছে নীরব কান্না।

উপকূলীয় এলাকার গলাকাটা ঘাট ও সর্ববৃহৎ উঠান মাঝির ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগে যেখানে মাছের ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণে সকাল-বিকাল ভরপুর ছিল পুরো ঘাট, সেখানে কয়েকজন জেলে ছাড়া কেউ নেই। সমুদ্রে থেকে সব ট্রলার কূলে তুলে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা হচ্ছে। অনেকে নিষেধাজ্ঞার ফাঁকে নিজেদের জালগুলো সেলাই করছেন। আবার অনেককে দেখা যায় মাছ ধরার জালগুলো রশি বেঁধে গাড়ি করে নিয়ে যেতে। ক্রেতার আনাগোনা না থাকায় ইলিশ বিক্রি ঘিরে গড়ে উঠা অর্ধশত চায়ের দোকানপাটও বন্ধ।

জেলে ও বোট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ধার-দেনা করে সাগরে বোট নামিয়েছিলেন। প্রথমদিকে মাছ না পেলেও শেষের দিকে মাছ ধরা পড়ে। হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় তারা বেশ বিপাকে পড়েন।

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা জেলেরা এ সাগরে মাছ ধরা ছাড়া আর অন্য কোনো কাজ জানি না। তাই এখানে মাছ ধরেই নিজের পরিবার চালাতে হয়, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে হয়। গত বছর অক্টোবরের শেষের দিকে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এই বছর প্রথমেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিছে। এ কারণে আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

উঠান মাঝির ঘাট কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাছির জানান, সবাই আড়তদার, মহাজন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে বোট নামিয়েছেন। প্রথম দিকে শুধু খরচ পুষিয়েছি। শেষমেশ যখন জালে ইলিশ পড়া শুরু হয়েছে তখনই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। অন্যান্য বছর আরও পরে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও এ বছর ভরা মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আমরা সবাই লোকসানে আছি। আর কয়েক দিন সময় পেলে মোটামুটি খরচ পুষিয়ে নেয়া যেত।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর আবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। মাছ ধরার এ বন্ধ সময়ের জন্য প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। ভবিষ্যতে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ..