সম্পাদকীয়

আন্তঃব্যাংক লেনদেন স্বাভাবিক করতে জরুরি পদক্ষেপ নিন

সারা বিশ্বে অতিমারি করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড) প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্থাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রথম থেকেই জনসমাগম ভিড় এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষও পরামর্শ দিচ্ছে, কভিডের সংক্রমণ প্রতিরোধে এ সময় ব্যাংকে ভিড় না করে ডিজিটাল সেবা নিতে। নিয়ন্ত্রক

সংস্থা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গ্রাহকদের অতি প্রয়োজন ছাড়া ব্যাংকে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং বিকল্প ঝুঁকিমুক্ত সেবা নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

কভিড সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই কার্যকর পদ্ধতি এবং সবার জন্য টিকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। ব্যাংকে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন গ্রাহকের এক বড় অংশ। বর্তমানে দেশের অন্তত ১৫টি ব্যাংক মোবাইল আর্থিক সেবা দিচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংক মোবাইল অ্যাপভিত্তিক পরিষেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা একাধিক পরিষেবা গ্রহণ করা যায়। এত সব সুবিধা সত্ত্বেও ব্যাংকিং সেবার জন্য ব্যাংকই সর্বোত্তম। আমাদের দেশে সব মানুষের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে অভ্যস্ত হতে অনেক সময় লাগবে। অন্তত সে সময় পর্যন্ত আমাদের প্রচলিত ব্যাংকিংকে সব মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটি: দু’দিন ধরে বন্ধ আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও চেক ক্লিয়ারিং’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কভিডকালে ব্যবহারকারীরা বিকল্প ব্যাংকিং কার্যক্রমে লেনদেন করায় ব্যাংকের কাজ কমেছে। অথচ এর মধ্যে ব্যাংকগুলো প্রত্যাশিত ব্যাংকিং সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সার্ভারে ত্রুটির জন্য। প্রতিবেদেনে জানা যায়, ভিন্ন ব্যাংকের চেক দিয়ে টাকা তুলতে পারেননি গ্রাহকরা।

আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউসের (ব্যাচ) সার্ভারের মাধ্যমে। কোনো ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন কোনো ব্যাংকের চেক নিজ হিসাবে জমা দেয়ার পর চেকের ছবি সার্ভারের মাধ্যমে ব্যাচে জমা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকাশ ঘরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে থাকা চেক ইস্যুকারী গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কেটে চেক জমাদানকারী ব্যাংকে পাঠানো হয়। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমন্বয়কারী ও নিরাপত্তার কাজটি করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সেবা-ফির মাধ্যমে। এতে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে লেনদেন সম্পন্ন করা সহজ। কিন্তু একটুতেই বিপত্তি ঘটতে পারে।

দেশকে কভিডমুক্ত করতে বিকল্প ঝুঁকিমুক্ত ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ব্যাংকিং সেবাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। দুই কার্যদিবস এক ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে অন্য ব্যাংকের চেক দিয়ে টাকা তুলতে পারেননি অনেক গ্রাহক। বিশেষ করে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাবে বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খুঁজে বের করতে হবে। দ্রুত এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..