আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতেই বিধিনিষেধ: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার যে বিধিনিষেধ জারি করেছে, তাকে অযৌক্তিক দাবি করছে বিএনপি। তারা বলছে, বিরোধী দলের চলমান প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত ও দমন করার জন্য এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নজরুল ইসলাম খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে

কারারুদ্ধ ও অসুস্থ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসাসহ অনির্বাচিত দুর্নীতিবাজ এ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অর্থনৈতিক, সমাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যথার্থ নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে এবং চলবে। এরই মধ্যে জনস্বার্থ ও প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের চলমান সভা-সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা দলের সবাইকে সভা-সমাবেশ সফল করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞ মহল যখন বলছে, উম্মুক্ত স্থানের চেয়ে বদ্ধ স্থানে কভিড বেশি ছড়ায়, তখন বাংলাদেশ সরকার ১১ দফা নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে উš§ুক্ত স্থানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করে বদ্ধ স্থানে তা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই অযৌক্তিক সরকারি সিদ্ধান্ত অবশ্যই কভিডের সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে নেয়া হয়নি। বিরোধী দলের চলমান প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করতেই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ বিস্তারের প্রথম দিকে সরকারি অবহেলা এবং সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের দায়িত্বহীন আস্ফালন দেশের জনগণকে বিপদাপন্ন এবং কভিডের অসহায় শিকারে পরিণত করেছে। পরবর্তী সময়ে কভিড নিয়ন্ত্রণের ও চিকিৎসাদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও সমন্বয়হীনতা সংকটকে জটিলতর করেছে। এর ফলে হাজারো মানুষ এমনকি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ব্যক্তিরাও অকালে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। পর্যাপ্তসংখ্যক জনগণকে টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এমনকি দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের চেয়েও পিছিয়ে ছিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে, হাটবাজার, যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে, দোকান-পাট, শপিংমল খোলা রাখা যাবে, সারাদেশে মেলার আয়োজন করা যাবে এবং মুজিববর্ষ পালনের কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করা যাবে, সেখানে উš§ুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে না। কাজেই এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক বলেই আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৬৬  জন  

সর্বশেষ..