প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আপটায় অন্তর্ভুক্তি: মঙ্গোলিয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন বাংলাদেশের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশসহ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিতে সপ্তম দেশ হিসেবে ‘মঙ্গোলিয়া’-কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। এ লক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (আপটা)-এর দ্বিতীয় সংশোধনী সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট টু দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে আপটার সদস্যভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও লাওস। ১৯৭৫ সালে ব্যাংককে স্বাক্ষরিত একটি অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তিকে ২০০৫ সালে ‘আপটা’ নাম দিয়ে পুনঃসই করা হয়। এটি ব্যাংকক এগ্রিমেন্ট নামেও পরিচিত, এর সদর দফতর ব্যাংককে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘সবগুলো সদস্য দেশ সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন দিলে আগামী ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে আপটা’র মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় মঙ্গোলিয়াকে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং চুক্তিপত্র সংশোধনীর পর মঙ্গোলিয়া আপটায় যুক্ত হলে এ ফোরামের সদস্য ৭-এ উন্নীত হবে।’

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্যারিফ কনসেশন দেওয়া হবে, আপটা চুক্তিপত্রের সঙ্গে এর একটি তালিকাও রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জেনারেল লিস্টে সব সদস্যদের জন্য পণ্যের সংখ্যা ৫৯৮টি। এখানে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হবে। স্পেশাল লিস্ট ফর এলডিসি’র (স্বল্পন্নোত) জন্য যেগুলো আছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত আরও চারটি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ হারে। বাংলাদেশ অংশ থেকে মোট ৬০২টি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হবে এলডিসি সদস্যদের জন্য।

তিনি জানান, অন্যান্য দেশও শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দিচ্ছে। চীন জেনারেল সুবিধা দেবে দুই হাজার ১৯১টি পণ্যের জন্য, যেখানে পাঁচ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা দেওয়া হবে। এলডিসির জন্য ১৮১টি, যেখানে শূন্য থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অন্যান্যের মধ্যে ভারত তিন হাজার ৩৩৪টি পণ্যে পাঁচ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেবে। আর এলডিসি দেশের জন্য ৪৭টি পণ্যে ১৪ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেবে।

দক্ষিণ কোরিয়া দুই হাজার ৭৯৬টি পণ্য এ তালিকায় রেখেছে। যার ছাড়ের হার ১০ থেকে ৫০ শতাংশ। এলডিসির জন্য ৯৬১টি আইটেম, ২০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

আর শ্রীলঙ্কা আপটা’র সব সদস্য দেশের জন্য ৫৮৫টি ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ৭৫টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেবে।

লাওস ৯৯৯টি পণ্যে ২০ থেকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেবে।

আপটাভুক্ত হলে মঙ্গোলিয়া ৩৩৩টি পণ্যে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

আশুলিয়ায় বন্ধ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত শ্রমিক আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ায় বন্ধ করে দেওয়া পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ বিষয়ে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘আশুলিয়ায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভা এটাকে স্বাগত জানিয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ যে, এগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ থাকলে আমাদের দেশের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি। ক্ষতি রোধ করার জন্য সমম্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আজকে থেকেই অলমোস্ট সবগুলো কারখানাই খুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শ্রমিক মোটামুটিভাবে যোগদান করেছে।

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটার তো বিধান আছে। সময়ে সময়ে এটাকে আপডেট করার সুযোগ আছে। যে সিস্টেমটা আইনে দেওয়া আছে, সেটা প্রি-ম্যাচিউর, এখনও স্টেজটা (পাঁচ বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ) আসে নাই।’

উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন বেতন ১৫ হাজার টাকা করার দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছিল। গত ১১ ডিসেম্বর আশুলিয়ার বেরন এলাকায় উইন্ডি গ্রুপের কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতির মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিধিসম্মতভাবে কোনো ধরনের দাবি উপস্থাপন না করেই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে জানিয়ে সরকার শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য কয়েক দফা আহ্বান জানায়। কিন্তু শ্রমিকরা কাজে ফিরে যায়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় (বন্ধের জন্য শ্রমিকরা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না) গত ২০ ডিসেম্বর ৫৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।