প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার বনানীতে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা ও দুই চাচা আপন জুয়েলার্সের এ তিন মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন তাদের জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দিলদার হোসেন গুলশান থানার দুটি ও রমনা থানার একটি মামলায় আদালতে হাজির হন। তার অপর দুই ভাই ধানমন্ডি ও উত্তরা থানার অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের নাম সামনে আসে। ওই ঘটনায় করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

এ মামলা চাপা দিতে বিপুল অর্থ খরচের চেষ্টার অভিযোগ উঠলে অর্থের উৎস ডার্টি মানি কি না অথবা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অস্বচ্ছ কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়।

গত মে মাসের শুরুতে দিলদারের ছেলে সাফাতের বিরুদ্ধে মামলার পর তার পরিবারের মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। ওই মাসের শেষ দিকে আপনের ১৫ দশমিক তিন মণ স্বর্ণ এবং সাত হাজার ৩৬৯টি হীরার অলংকার জব্দ করে জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

অনুসন্ধান শেষে গত ১২ আগস্ট দিলদার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ (সংশোধিত ২০১৬) অনুযায়ী গুলশান থানায় দায়ের করা দুই মামলায় গুলজার ও আজাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা এলো। এ দুই মামলায় ২২ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন তারা।

ওই জামিনের মেয়াদ শেষে গতকাল মামলার শুনানির ধার্য দিনে আসামিরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন ও জামিন চান। তবে বিচারক তা নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এক পরিচিত ব্যক্তির জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তারা। বনানীর রেইনট্রি হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের ধর্ষণ করা হয়।