প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুদ্রা পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুই মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী গতকাল সোমবার পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে ওই আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, ‘আমরা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে যা করা প্রয়োজন, তার সবটুকু করব।’

এর আগে গত রোববার আপনের অপর দুই মালিক দিলদারের ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন মহানগর হাকিম নূরুন্নাহার ইয়াসমিন।

তথ্যমতে, বনানীর হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত মে মাসে দিলদারের ছেলে সাফাতের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তার পরিবারের মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্সের সোনা চোরাচালানের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। ওই মাসের শেষ দিকে আপনের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ১৫ দশমিক তিন মণ সোনা এবং সাত হাজার ৩৬৯টি হীরার অলংকার জব্দ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। অনুসন্ধান শেষে গত ১২ আগস্ট দিলদার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালংকার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি। এ দুই মামলায় ২২ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান আপনের মালিক তিন ভাই। ওই জামিনের মেয়াদ শেষে আরও এক মাস পেরিয়ে গেলেও আসামিরা নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করায় দুই বিচারক তা নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।