প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আপিল বিভাগেও জামিন পেলেন না খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া খারিজ আদেশ বহাল রইল। এতে তিনি ওই মামলায় জামিন পেলেন না।

গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে মেডিকেল বোর্ডকে তার অধিকতর চিকিৎসা (অ্যাডভান্স বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট) করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আদালত সর্বসম্মতভাবে ওই নির্দেশ দেন।

তথ্যমতে, জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হলে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর। পরে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। আর জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী  মো. খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্টে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা বা ‘অ্যাডভান্স বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট’-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চ্যারিটেবল মামলায় গত ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন। পরে ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তার আইনজীবীরা আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এক হাজার ৪০১ পৃষ্ঠার ওই আপিল আবেদন দাখিল করা হয়। ওই আপিলের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে মামলার কার্যক্রম গতকাল পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন আপিল আদালত।

গতকাল শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আপিল বিভাগ ১০ বছর সাজার আসামিকেও জামিন দিয়েছেন। পাকিস্তানের মতো বর্বর দেশেও নওয়াজ শরীফকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে, লন্ডনে পঠিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা তার (খালেদা জিয়া) জামিন চাইছি।’

বেলা ১১টার দিকে আদালত বিরতিতে যায়। সাড়ে ১১টায় আবার শুনানি শুরু হলে জয়নুল আবেদীন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জয়নুলের পর বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুই মামলায় খালেদা জিয়া ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এটাকে শর্ট সেনটেন্স বলা যায় না। তাছাড়া দুই মামলাতেই আপিল শুনানির জন্য রেডি। এ অবস্থায় জামিন হওয়া উচিত নয়।’

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট থেকে উ™ৃ¬ত করে শুনানিতে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। আমরা তার জামিন আবেদন নাকচ করার আর্জি জানাচ্ছি।’

দুপুর ১টায় শুনানি শেষে মিনিট দশেক বিরতি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানান আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। ওইদিন রায়ের পরপরই তাকে পুরোনো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা দুদকের রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে গত ৩০ অক্টোবর তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..