বিশ্ব সংবাদ

আফগানিস্তানে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা বাইডেনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অবশেষে দীর্ঘতম যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণা বাস্তবায়নে আগামী ১ মে থেকে আফগানিস্তান থেকে মার্সিক সেনা প্রত্যাহার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সব সৈন্য প্রত্যাহারের পরও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে কিন্তু ‘সামরিকভাবে’ নয় বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। খবর: বিবিসি ও রয়টার্স।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসের একটি ঘর থেকে দেয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমেরিকার দীর্ঘতম লড়াই শেষ করার এটিই সময়।’ ওই স্থান থেকেই ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার কথা প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল।

গত এক দশকে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ‘ক্রমাগত অপরিষ্কার’ হয়ে উঠেছে বলে ভাষণে স্বীকার করেন বাইডেন। তিনি আফগানিস্তানে থাকা আড়াই হাজার মার্কিন সৈন্যের সবাইকে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার হামলার ঠিক ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরিভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হতে চলেছে।

পরিষ্কার জয় ছাড়া সৈন্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে কার্যত আমেরিকার সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা মেনে নেয়া হয়েছে; নিজেদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন সমালোচনার জন্য নিজেদের উম্মুক্ত করে দিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

বাইডেন বলেন, ‘আমরা হামলার শিকার হয়েছিলাম। পরিষ্কার লক্ষ্য নিয়ে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমরা ওই লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি। আর চিরকালীন যুদ্ধটি শেষ করার এটিই সময়।

২০১১ সালে মার্কিন সৈন্যরা আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে এবং আফগানিস্তানে সংগঠনটিকে ‘হীনবল’ করে দেয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই হাজার ৪৪৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০১১ সালে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সৈন্য সংখ্যা সর্বোচ্চ এক লাখ ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরের ১ মে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন বাইডেনের পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি তা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি।

ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া তারিখের পরিবর্তে সেই দিন থেকেই সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। বাইডেন বলেন, ‘এখন আমি চতুর্থ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যে আফগানিস্তানে আমেরিকান সৈন্যদের উপস্থিতি দেখভাল করছে। দুজন রিপাবলিকান, দুজন ডেমোক্র্যাট। আমি এই দায়িত্ব পঞ্চমজনের কাছে ঠেলে দেব না।’

এই সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাইডেন তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি ঝুঁকিকে বরণ করে নিচ্ছেন যা তার উত্তরসূরিদের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দেখা দিতে পারে; যেমন, আল কায়দা নিজেদের পুনর্গঠন করে নিতে পারে অথবা তালেবান বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কাবুল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।

ব্রাসেলসে নেটো কর্মকর্তাদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে নেটোর কমান্ডে থাকা বিদেশি সৈন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি ছাড়বে। ব্লিনকেন বুধবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধানকে ফোন করে কথা বলেন এবং আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে।

২০০১ সালে হোয়াইট হাউসের ট্রিটি রুমে দাঁড়িয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগান যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার প্রায় ২০ বছরের মাথায় একই স্থানে দাঁড়িয়ে এই যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার দুই পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেন।

২০০১ সালে জর্জ বুশের আফগান যুদ্ধ ঘোষণার সময় বাইডেন সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তিনি তখন একজন সিনেটর হিসেবে জর্জ বুশের আফগান যুদ্ধের অনুমোদন দেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়াদকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন। বারাক ওবামা চেষ্টা করেও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সফল হতে পারেননি। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ওবামা ও বাইডেনের মধ্যে মতপার্থক্যের কথা সংবাদমাধ্যমে আসে।

২০০১ সালে যখন এ যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল, তখন আফগানিস্তানে বর্তমানে নিয়োজিত অনেক মার্কিন সেনার জš§ই হয়নি। তাই এ যুদ্ধকে আমেরিকার প্রজš§ান্তরের যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হয়। আফগান যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরলিংটন সমাধিতে যান। আফগান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের জাতীয় এই সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুদ্ধে নিহত সেনাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..