দিনের খবর স্পোর্টস

আফিফ-নুরুল বীরত্বে বাংলাদেশের টানা জয়

ক্রীড়া ডেস্ক: সহজ লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে যেয়ে শুরু থেকেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। একটা সময় ৯ রানের ব্যবধানে সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসানকে হারিয়ে হারের চোখ রাঙানিও পেয়েছিল টিম টাইগার্স। তবে বুধবার সবকিছু পেছনে ফেলে বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে যান আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। শেষ পর্যন্ত তাদের বীরত্বে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচও টাইগাররা জিতে নিয়েছে ৫ উইকেটে ৮ বল হাতে রেখে।
বুধবার মিরপুরে আগে বল হাতে মোস্তাফিজ-শরিফুলদের তোপে ৭ উইকেটে ১২১ রানেই অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভাল না হলেও শেষ পর্যন্ত আফিফ-নুরুলের নৈপুণ্যে ১৮.৪ বল মোকাবেলা করে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এরফলে টাইগাররা ৫ ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গল। আফিফ ৩১ বলে ৩৭ ও নুরুল করেন অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ২৩ রান করে। এরআগে সাকিব ২৬ ও মেহেদী করেন ২৩ রান।
জবাব দিতে নেমে ভালটা ভাল করতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।মিচেল স্টার্কের ফুললেংথের বলের গতি বুঝতেই পারেননি সৌম্য। আগেভাগেই আড়াআড়ি ব্যাট চালিয়েছিলেন তিনি। তাই বোল্ড হন। তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ হারাল প্রথম উইকেট। এরপর বলেই ফিরতে পারতেন সাকিব আল হাসানও। তবে স্টার্কের পাতানো ফাঁদে টা দেননি তিনি। উল্টো চার হাঁকান এ তারকা। পরের দুই বলেও তার ব্যাট থেকে আসে দুটি চার। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হ্যাজেলউডের করা প্রথম বলেই আউট হন নাঈমও। একটু ফুললেংথ থেকে বলে ছিল মুভমেন্ট, নাঈম খেলেন ভুল লাইনে। সৌম্যর মতো বোল্ড হন তিনিও। 
দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। এ অবস্থা থেকে বের হতে তৃতীয় উইকেটে মেহেদী হাসানকে নিয়ে বেশ দেখেশুনে খেলেন সাকিব। পরে ব্যাট চালানোর চেষ্টা করেন দ্রুত। শেষ পর্যন্ত সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।অ্যান্ড্রু টাইয়ের নাকল বলটা ঘুরিয়ে মারতে যাওয়ার চেষ্টাটা সফল হয়নি সাকিবের। লাইন মিস করে হন বোল্ড। মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটিও ভাঙল এতে। ১৭ বলে ২৬ রান করে ফিরেন সাকিব।এর কিছুক্ষণ পরেই অ্যাস্টন আগারের বলে প্লেড অন হয়ে রোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সে সময় বাংলাদেশের রান ৯.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৫৯। তাই বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। যা আরও বাড়ে মেহেদীর বিদায়ে। অ্যাডাম জাম্পাকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিস করেন, এবার আর শেষরক্ষা হয়নি তার। ক্রিজে ফেরার আগেই স্টাম্পিংয়ের কাজতা সেরে ফেলেন ম্যাথু ওয়েড। মেহেদী ফিরেন ২৩ রান করে, জয় থেকে ৫৫ রান দূরে তখন বাংলাদেশ। ঠিক সে সময় বুক চিতিয়ে লড়াই করেন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। তারপরো জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৩২ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। সে সময় বল হাতে নেন স্টার্ক। তবে দমে যাননি নুরুল-আফিফ। ১৬তম ওভার থেকে তারা নেন ১২ রান। তাই জয় সহজ হয়ে যায় টাইগারদের।  শেষ পর্যন্ত সেটা করেই মাঠ ছাড়েন তারা। তাই উল্লাসে মাতে টিম টাইগার্স।
এরআগে টস হেরে এবার আগে বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। দ্রুতই সাফল্যে পায় টিম টাইগার্স। তৃতীয় ওভারে মেহেদীর তৃতীয় বলে বুঝতে না পেরে অ্যালেক ক্যারি (১১ বলে ১১) তুলে দেন মিড অফে, নাসুম নেন সহজ ক্যাচ। ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই জাদু দেখান মোস্তাফিজুর রহমান। তার অবিশ্বাস্য ডেলিভারিতে বোকা বনে বোল্ড হয়ে যান গ্লেন ফিলিপে।
৩১ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া এরপর দেখেশুনে খেলার কৌশল নেয়। তৃতীয় উইকেটে পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়েন ময়জেস হেনড্রিসক আর মিচেল মার্শ। তাদের ৫২ বলে ৫৭ রানের জুটিটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাকিবকে সুইপ খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন হেনড্রিকস। ২৫ বলে করেন ৩০ রান। 
দলের বিপদে মার্শ আরও একবার ধরে খেলছিলেন। তবে ভুল করে বসেন শরিফুল ইসলামের বেরিয়ে যাওয়া এক ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে। ৪২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান ক্যাচ দিয়ে বসেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের কাছে। একশর আগে (৯৯ রানে) ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
১৮তম ওভারে এসে অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ আরও বাড়ান মোস্তাফিজ। টানা দুই বলে তুলে নেন দুই উইকেট। অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড (৭ বলে ৪) লেগ স্ট্যাম্প খালি করে শট খেলতে গিয়েছিলেন, মোস্তাফিজের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প উড়ে যায়। পরের বলে অ্যাস্টন অ্যাগারও হন বিভ্রান্ত। তার গ্লাভসে লেগে বল যায় উইকেটরক্ষক সোহনের গ্লাভস। তাই অল্পতেই গুটিয়ে যায অজিরা
 মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ২৩ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। সমান ওভারে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন শরিফুল।Attachments area

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..