দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শামীম-মোয়াজ পাঁচ দিনের রিমান্ডে

আবরার হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হুরায়রার পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন।

এর আগে, তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির লালবাগ জোনের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে পাঠানো শামীম বিল্লাহ বুয়েটের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের ছাত্র। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে। মোয়াজ আবু হুরায়রা তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই)  বিভাগের একই ব্যাচের ছাত্র। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার পিরপুর গ্রামের মাশরুর-উজ-জামানের ছেলে।

শামীমকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকা থেকে এবং মোয়াজকে ১২ অক্টোবর সকাল ১১টায় উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শুক্রবার সাতক্ষীরা হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল শামীমের।

এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা বুয়েটছাত্র মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদ বুয়েট ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।

গত ৬ জুন আবরার খুন হওয়ার পরপরই যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল, তাদের মধ্যে মুজাহিদ একজন। গতকাল মুজাহিদকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এ আদালতের পেশকার জাহিদ হাসান বলেন, ‘মুজাহিদ অপরাধে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’

এ হত্যা মামলায় এর আগে বুয়েটছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকার আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে ফাহাদকে নির্দয়ভাবে পেটান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান তার সহপাঠীরা। সেখানে চিকিৎসক ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে চার দফায় ১৬ জনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠান আদালত। অসুস্থ থাকায় মিজান নামে এক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ছাত্রলীগ এরই মধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে। আর আবরারের বাবা যে ১৯ জনের নামে মামলা করেছেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ..