সম্পাদকীয়

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সচল করতে উদ্যোগ কাম্য

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁঁকিতে থাকা এবং এমন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারিতে। এসব দুর্যোগ প্রতিরোধ করা এখনও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের আগে এর গতি-প্রকৃতি জানা গেলে মানুষ সচেতন ও সতর্ক হয়। তাতে ফল-ফসলে ক্ষতি এবং গবাদিপশুসহ মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা কমে।

দুর্যোগপূর্ণ দেশ হওয়ায় আবহাওয়ার বিষয়ে সর্বসাধারণের তথ্য জানা জরুরি। দায়িত্ব পালন করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতর কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয় না; বরং এটি বৃষ্টিপাত, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, সর্বনি¤œ তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতা, মেঘ, বতাসের দিক ও গতি, রৌদ্রোজ্জ্বল ঘণ্টা, নদনদীর পানির অবস্থা প্রভৃতি সম্পর্কে আগাম তথ্য ও সতর্কীকরণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। এসব তথ্য কৃষি, নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত জনবল সংকটে কাজে আসছে না আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ শীর্ষক প্রতিবেদন সবাইকে হতাশ করবে বৈকি।

খবরে বলা হয়, নির্মাণের পাঁচ বছর পরও খাগড়াছড়ি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হয়নি। আট কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে জনবল সংকটের কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি কোনো কাজে আসছে না। বর্তমানে বিনা বেতনে কাজ করছেন চর্তুথ শ্রেণির একাধিক কর্মচারী। যন্ত্রপাতির সঠিক পরিচর্যা না করায় মরিচা ধরেছে এবং নষ্ট হচ্ছে। শ্যাওলা জমে গেছে অফিস প্রাঙ্গণসহ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের একাধিক স্থানে।

কৃষি উন্নয়নে জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি অপরিহার্য। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা বলা হয়েছে। ১৭টি অভীষ্টের ১৩তম অভীষ্ট হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির শিকার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ প্রথম দিকে। এ অবস্থায় জনবল সংকটে একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া দুঃখজনক। আবহাওয়াবিদ ও কৃষিবিদদের সমন্বয়ে কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মৌসুমি পূর্বাভাসে কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পরামর্শ সেবার মান বাড়ানোর কার্যক্রমও এতে স্থবির হয়ে যাবে। ফলে খাগড়াছড়ির মানুষ বিশেষ করে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা ফসলের মৌসুমি বালাই ও রোগ প্রতিরোধে কৃষককে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ পরামর্শ সেবা তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত ও দ্রুত পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা হবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..