প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আবারও করছাড় পাচ্ছেন তৈরি পোশাক মালিকরা

রহমত রহমান: বাজেট পাসের তিন মাসের মাথায় আবারও করছাড় পাচ্ছেন তৈরি পোশাক মালিকরা। তাদের উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ চিঠি দেওয়া হয়।
যদিও চলতি অর্থবছর বাজেটে পোশাক রফতানির ওপর উৎসে কর এক শতাংশ করা হয়। তবে বাজেটের পর তৈরি পোশাক মালিকরা উৎসে কর কমাতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি তা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উৎসে করের পাশাপাশি বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদানেরও সুপারিশ করা হয়।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে চিঠি দেন। এতে বলা হয়, দেশের সিংহভাগ রফতানি আয় অর্জনকারী পোশাক খাত বরাবরই প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা ও সহানুভূতি পেয়ে আসছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কিছু দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়নে নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে আরোপিত উৎসে কর এক শতাংশ থেকে হ্রাস করে দশমিক ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হন এবং অচিরেই বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, দশমিক ২৫ শতাংশ উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করা এবং তা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করতে অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বিশেষ নগদ সহায়তা বিষয়ে বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের মূল্য হ্রাস এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় টাকার শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়গুলো সুবিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পোশাক রফতানির ওপর বিশেষ নগদ সহায়তার ঘোষণা আসে।
পরবর্তীকালে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শর্তারোপ করা হয়, যেসব রফতানিকারক প্রচলিত নগদ সহায়তার কোনো একটি পাবেন, তারা এই এক শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা পাবেন না। এ শর্তের ফলে অধিকাংশ রফতানিকারক নতুন এ নগদ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের শর্তবিহীন সব রফতানিমুখী তৈরি পোশাক রফতানির ওপর এক শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
নগদ সহায়তার ওপর কর বৃদ্ধির বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে নগদ সহায়তা বাবদ দেওয়া অর্থের ওপর আয়কর কর্তনের হার তিন শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও ২০১২ সালের অর্থবিলে এ খাতে আয়কর কর্তনের হার পাঁচ শতাংশ করা হয়, যা ২০১৪ সালে হ্রাস করে তিন শতাংশ করা হয়।
নগদ সহায়তার অর্থ বিবেচনায় নিয়েই এক্ষেত্রে আয়করের হার হ্রাস করা হয়েছিল। যেহেতু নগদ সহায়তার অর্থ ব্যবসা থেকে অর্জিত কোনো আয় নয়, সেহেতু এ সহায়তা বাবদ প্রাপ্ত অর্থের ওপর কোনো ধরনের আয়কর কর্তন কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। সেজন্য নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এনবিআর কাজ করছে। সহসাই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্র জানায়, রফতানি আয়ের প্রধান খাত বিবেচনায় তৈরি পোশাক খাতে কয়েক বছর ধরে উৎসে করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ পোশাক খাতে উৎসে কর কমানো হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তখন ১০০ টাকায় উৎসে কর এক টাকা থেকে ৬০ পয়সা (০.৬০ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়।
পোশাককর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আরেক দফা কর কমানোর দাবি করেছে বিজিএমইএ। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিজিএমইএ বলেছে, শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি দিতে হলে পোশাক মালিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। কর কমানো না হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নীতিগত অনুমোদনের পর এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশে মোট রফতানির ৮৩ শতাংশের বেশি হয় তৈরি পোশাক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..