সারা বাংলা

আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে

মো. রজব আলী, দিনাজপুর: কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ  উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে। খনিতে কর্মরত শ্রমিক, পাথর ব্যবসায়ী আর পরিবহন শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে খনি এলাকা। করোনার কারণে চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার পর গত বুধবার খনি থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।

খনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খনির প্রধান গেটের সামনে সারি সারি পাথরবাহী ট্রাক। খনির প্রধান ফটকের সামনে পাথর ব্যবসায়ী, পাথর লোড-আনলোড শ্রমিকসহ নানা ধরনের ছোট ছোট চা-বিস্কুটের দোকান পসরা বসিয়েছে।

খনি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করে। এতে খনিটির উৎপাদন ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফলে পাথর খনিটি  লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, মধ্যপাড়া পাথর খনির রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে চুক্তির পর মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর উত্তোলনের রেকর্ড গড়ে। এ কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মধ্যপাড়া পাথর খনিটি প্রথমবারের মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

সূত্র জানায়, দেশের উন্নয়নে মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভূতত্ত্ববিদ এবিএম কামরুজ্জামানের দিক-নির্দেশনায় পাথর উত্তোলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার আলোকে গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জিটিসি প্রথম শিফট এবং পরে দ্বিতীয় শিফটে পাথর উৎপদান শুরু করে। মাসিক এক লাখ ২০ হাজার টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জিটিসি গত বুধবার থেকে তিন শিফটে পুরোদমে পাথর উত্তোলন ও খনির ভূগর্ভের উন্নয়নকাজ শুরু করে।

জিটিসির পরিচালক জাবেদ সিদ্দিক বলেন, ‘চুক্তি পূরণ ও দেশের স্বার্থে মধ্যপাড়া খনিতে সর্বোচ্চ পাথর উত্তোলনে জিটিসি অঙ্গীকারবদ্ধ। শুরু থেকে চুক্তি অনুয়ায়ী সর্বোচ্চ পাথর উত্তোলন করা হয়। এতে খনিটির পাথর উৎপাদনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’ আগামীতেও একইভাবে জিটিসি কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভূতত্ত্ববিদ এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ কে সামনে রেখে, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের মেঘা প্রকল্পে পাথর সরবরাহের লক্ষ্যে খনিটিতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য খনিটিতে দ্বিতীয় কূপ খননের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।’ সরকারি অনুমতি এলেই দ্বিতীয় কূপের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এ ভূতত্ত্ববিদ আরও জানান, দ্বিতীয় কূপটি চালু করা হলে প্রতিদিন এ খনি থেকে সাড়ে ১৬ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এতে করে দেশের মোট পাথরের চাহিদার অর্ধেক পাথর এ খনি থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..