বিশ্ব বাণিজ্য

আবারও বিশ্ববাণিজ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল ডব্লিউটিও

 

শেয়ার বিজ ডেস্কL যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্যে। তাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। আগের পূর্বাভাস সংশোধন করে সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে এক দশমিক দুই শতাংশ এবং আগামী বছর বিশ্ব বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমে হবে দুই দশমিক সাত শতাংশ। খবর: রয়টার্স।
এর আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, চলতি বছর বিশ্ববাণিজ্য প্রবৃদ্ধি হবে দুই দশমিক ছয় শতাংশ এবং আগামী বছর প্রবৃদ্ধি হবে তিন শতাংশ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাণিজ্য প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগের পূর্বাভাসে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে তা আরও কমবে।
সংস্থাটি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্য-সম্পর্কিত বেশকিছু নির্দেশকের পতনে চলমান প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি অব্যাহত থাকবে। তাই নীতিনির্ধাকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ঝুঁকি। মুদ্রানীতি সংকুচিত হচ্ছে এবং অন্যান্য আর্থিক অস্থিতিশীলতা পুরো বাণিজ্য পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। এসব কারণে বাণিজ্য-সম্পর্কিত সূচকগুলো গতি হারিয়েছে। রফতানি আদেশ কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তাও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমার কারণ।
প্রতিবেদনে বিশ্ববাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাসের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো কোনো দেশের বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। উন্নত দেশগুলো সুদহার বাড়ানোয় উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোর পুঁজি সেখানে চলে যেতে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে কিছু অঞ্চলের সম্পদের সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে। এসব কারণের পাশাপাশি চীনের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনও একটি কারণ।
আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ মনে করেন, ব্রেক্সিট, চড়া সরকারি ঋণ, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অস্থির বাজার বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তবে তার মতে, মন্দার আশঙ্কা এখনই হচ্ছে না; বিশেষত চীনা অর্থনীতিতে প্রণোদনা ও বিভিন্ন দেশে শীর্ষ ব্যাংকের পদক্ষেপে আগামী দিনে অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ‘দরিদ্র ও আরও বিপজ্জনক’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে এর আগে এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছিল আইএমএফ।

সর্বশেষ..