Print Date & Time : 21 June 2021 Monday 10:02 am

আবার স্টোররেন্ট চার্জ মওকুফ চায় বিজিএমইএ

প্রকাশ: May 15, 2020 সময়- 10:41 am

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: কারখানা চালু থাকলে তৃতীয়বার স্টোররেন্ট বা ডেমারেজ চার্জ মওকুফ চায় বিজিএমইএ। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রণোদনার মেয়াদ দুবার বাড়ানো হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রথমবার বুমেরাং হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে কনটেইনার জট কিছুটা কমে। তবে একই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নেওয়া পদক্ষেপও জট কমাতে সহায়তা করে।

প্রথমবার ২৭ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে আমদানি করা পণ্য খালাস করলে কনটেইনার রাখার ভাড়া শতভাগ ছাড় দিয়েছিল মন্ত্রণালয়টি। কিন্তু এ আদেশের পর বন্দরে উল্টো পণ্য খালাসের হার ৭০ শতাংশ কমে যায়। এতে কনটেইনার জটে বন্দরের কার্যক্রম থমকে যায়।

তারপর ওই প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হলে বিজেএমইএ অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর জন্য আবার আবেদন করে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের স্টোররেন্ট বা ডেমারেজ চার্জ মওকুফ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এদিকে চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’দিন আগে আবার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া চিঠিতে ড. রুবানা উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্প খাত গভীর সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে, জাতীয় অর্থনীতিতে যার ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান। তাছাড়া বর্তমানে ক্রেতা কর্তৃক যেসব ক্রয়াদেশ পাওয়া যাচ্ছে এবং আগের ও আগের আদেশের বিপরীতে পোশাক রপ্তানি করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে; তার পেমেন্ট পেতেও ছয় মাস সময় লাগবে।

এর ফলে তৈরি পোশাকশিল্প খাত দারুণভাবে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটিসহ সরকার কর্তৃক লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা পর্যায়ক্রমে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে যতদিন পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বা লকডাউন চলমান থাকবে, তত দিন পর্যন্ত চালান খালাসে বন্দরের ডেমারেজ চার্জ মওকুফের সময়সীমা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রণোদনার মেয়াদকাল ১৬ মে শেষ হবে। তবে বিজেএমইএ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন এলেও বন্দরের চেয়ারম্যানের এক হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করার ক্ষমতা রাখে। তাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বন্দরের সময় বাড়ানোর ক্ষমতা নেই।’

চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাফিক বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ১৩ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জমে আছে ৪৪ হাজার ৬১৫টি। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও সরঞ্জামবাহী কনটেইনার। তবে প্রথমবার প্রণোদনাকালে তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় তেমন ছাড় হয়নি। ফলে ডেমারেজ চার্জ মওকুফের থাকলেও কনটেইনার ছাড় করেনি কারখানা মালিকরা।

কিন্তু বর্তমানে প্রায় তৈরি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। বন্দর থেকেও প্রতিদিন চার হাজারেরও বেশি কনটেইনার খালাস হচ্ছে। সর্বশেষ ১৩ মে চার হাজার ২৬৫টি কনটেইনার খালাস হয়েছে। এরপর বিজেএমইএ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর পর তা বিনা ভাড়ায় চার দিন পর্যন্ত বন্দর চত্বরে রাখা যায়। এরপর প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারের জন্য ছয় ডলার, পরবর্তী সপ্তাহে প্রতিদিন ১২ ডলার এবং ২১তম দিনের পর থেকে প্রতিদিন ২৪ ডলার করে ভাড়া দিতে হয়। এভাবে সাধারণ ছুটির সময় চার দিনের পরিবর্তে বিনা ভাড়ায় ২৫ দিন পর্যন্ত কনটেইনার রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।