সম্পাদকীয়

আবাসন খাতে ব্যাংকঋণ বাড়াতে উদ্যোগ নিন

খাদ্য ও বস্ত্রের পর মানুষের মৌলিক প্রয়োজন বাসস্থান। আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজন গৃহায়ন। আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী গ্রামে বসবাস করে। তাদের প্রায় সবাই গৃহঋণ সুবিধার বাইরে। নিজের বাড়ি হোক বা ভাড়া বাড়ি হোক, শহরের বাসিন্দারাই গৃহায়নের সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিদ্যমান বাস্তবতায় খুব কমসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহায়ন সুবিধাসংবলিত বাড়ি তৈরির সামর্থ্য রয়েছে। গৃহঋণ নিরাপদ বসবাসের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য কর্ম ও উপার্জনে ভূমিকা রাখে।

জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় আবাসনের সংস্থান কঠিন হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) পক্ষেও এককভাবে সম্ভব নয় আবাসন সমস্যার সমাধান করা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দিলেও সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক নয়।

ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে সবার আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সহজতর হবে এমনই ধারণা রয়েছে জনমনে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মোট ঋণের পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ আবাসন খাতে’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে হতাশার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য হলো, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আবাসন খাতে ঋণ ছিল মোট ঋণের মাত্র পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ খাতে ঋণদানের হার কখনোই আশাব্যঞ্জক ছিল না। অথচ আবাসন সংকট নিরসনে ব্যাংকঋণের অপর্যাপ্ততার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে, নতুন নতুন আবাসনের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আবাসন খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে না, বরং কমছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসন ঋণসুবিধা দিয়েছে রাষ্ট্র। তারা ২০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ২০ বছর। এ ঋণের জন্য ব্যাংক গড়ে ১০ শতাংশ হারে সুদ নেবে, তবে ঋণগ্রহীতাকে দিতে হবে পাঁচ শতাংশ। বাকিটা রাষ্ট্রপক্ষ পরিশোধ করবে ভর্তুকি হিসেবে। সব মানুষকে এমন সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সুদহার কমিয়ে সীমিত আয়ের মানুষদেরও এ ঋণ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। আবাসন ঋণে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিও কম। তারপরও এ খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনীহা দুঃখজনক।

আবাসন খাতে ঋণ বিতরণ কম হওয়ায় সীমিত ও নি আয়ের লোকজনের পক্ষে বাড়ি নির্মাণ আরও কঠিন। এ খাতে ঋণ বাড়ানো গেলে সরকারের ‘সবার জন্য আবাসন’ কর্মসূচি যেমন বাস্তবায়ন করা যাবে, তেমনই নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া ক্ষমতাসীন দলের ঘোষিত ইশতেহারের ‘গ্রাম হবে শহর’ শীর্ষক বিশেষ অঙ্গীকার পূরণ হবে। তাই আশা করা যায়, আবাসন খাতে ব্যাংকঋণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারই উদ্যোগ নেবে।

সর্বশেষ..