শেষ পাতা

আবাসিকে গ্যাস সংযোগের পরিকল্পনা সরকারের নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘এ মুহূর্তে আবাসিক এলাকায় নতুন করে কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই’ বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই। দেশের মূল্যবান সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে মূল্য সংযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাহক শ্রেণিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে আবাসিক অর্থাৎ গৃহস্থালি কাজে গ্যাস সংযোগ দেওয়া স্থগিত আছে। তবে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কারাগারে গৃহস্থালি কাজে গ্যাস সংযোগ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে ব্যবহƒত প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় রোধে এবং জ্বালানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে গৃহস্থালি গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে বাসাবাড়িতে পাইপলাইন গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

‘ঢাকা ও এর আশেপাশে গ্যাস পাইপলাইন অনেক পুরোনো’Ñএ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনা সত্য। ঢাকা ও এর আশেপাশের গ্যাস পাইপলাইন ৫০ বছরের পুরোনো। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে এসব গ্যাস পাইপলাইন পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমান সরকার এসবের পরিবর্তনে পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ব্যাপারে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

সমুদ্রের গ্যাস আহরণ-সংক্রান্ত ব্যাপারে জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘সমুদ্রে গ্যাস সার্ভে করার জন্য বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আসে; কিছুদিন কাজ করে আবার চলে যায়। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম পড়ে যাওয়ার কারণে তারা চলে গেছে। বছর দুয়েক হলো মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সার্ভে শুরু হয়েছে। একটি সার্ভে কাজ শেষ করতে ১০-১১ বছর লাগে। সার্ভে করে যদি গ্যাস না পায়, তাহলে সব খরচ ওইসব কোম্পানিকে বহন করতে হয়। আমাদের গ্যাসের অবস্থা কী, তা জানা নেই। তবে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে যে সার্ভে চলছে, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে টেন্ডারে যেতে পারব বলে আশা করছি।’

এদিকে ‘আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সারা দেশে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে’ বলেও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। বিএনপির হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ৫০ বছর লেগেছে। আমাদের এত সময় লাগবে না। আমি কখনও বলিনি সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরেছি। তবে আমরা তিন থেকে চার বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব।’

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইডকলের অর্থায়ন ও টিআর-কাবিটা প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের গ্রাহক ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে ইডকলের নিজস্ব অর্থায়নে ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯১, টিআর-কাবিটা প্রকল্পের অধীনে গ্রাহক ১১ লাখ ২৭ হাজার ১৫৮ এবং অন্যান্য সংস্থার সাত লাখ ৪৫ হাজার ১৫৪ জন।’

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ‘বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৫১০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। সারা দেশে অফগ্রিড এলাকায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের সংখ্যা ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯টি।’

বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘বর্তমান সরকারের আমলে ১০ বছরে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত গৃহস্থালি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে চারবার; শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, চা ও বাণিজ্যিক খাতে পাঁচবার এবং সিএনজি খাতে ছয়বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সব শ্রেণির গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘ছয়টি গ্যাস কোম্পানির আওতায় বর্তমানে ৪২ লাখ ৯০ হাজার গৃহস্থালি সংযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৮৬টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এ হিসাবে আবাসিকের ছয় শতাংশ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় এসেছেন।’

সংসদে ঢাকা-২০ আসনের সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ হাজার ৪২৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৯ হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৪টি ও বেসরকারি খাতে আট হাজার ৫২৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..