দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

আবাসিক হল না ছাড়ার হুঙ্কার জাবি শিক্ষার্থীদের

ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের পরে নিরাপত্তার দাবিতে তালা ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আগের দাবির সঙ্গে নতুন কয়েকটি যোগ করেছেন। গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসের পরিবহন চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। এর আগে তারা ছয় দফা দাবি দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি পূরণে উদ্যোগী না হলে তারা পরবর্তী কর্মসূচিতে যাবেন বলে হুশিয়ার করেছেন সংবাদ সম্মেলনে।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের আগে মিছিলসহ গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন; পরে ছাত্রীদের সেখানে রেখে আসেন। বিকালে শিক্ষকদের বৈঠক শেষে বঙ্গমাতা হলে গিয়ে প্রভোস্ট মজিবুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক তাদের হলত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্রীরা হল ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন।

তিন দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার দিনভর বিক্ষোভ দেখিয়ে তালা ভেঙে হলে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। রোববার ও গতকাল সোমবার তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে।
এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হল খোলার কোনো ঘোষণা না আসায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা মানেনি।

গতকাল বেলা ২টায় পরিবহন চত্বরের সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাবি পড়ে শোনান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (৪৬তম ব্যাচ) শারমিন আক্তার সাথী। নতুন দাবির মধ্যে রয়েছে রোববার মধ্যরাতে হল ছাড়ার জন্য দেয়া কর্তৃপক্ষের প্রজ্ঞাপন ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা। এ প্রজ্ঞাপন তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তারা হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং কোনোভাবে হল থেকে বের করার চেষ্টা না করার আহŸান জানান।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মাঝে গেরুয়ার ‘সন্ত্রাসীদের’ চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও এর ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করলে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ দাবি মেনে না নিলে আগামী ২৪ তারিখ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে, আগামী ১৭ মে হল আর ২৪ মে ক্লাস শুরুর ঘোষণা আসায় শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদালয়ে তাদের অবস্থান অনড় থাকবে বলেছেন শারমীন আক্তার। শারমীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। তবে জাহাঙ্গীরনগরের পরিস্থিতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো না। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস-সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে, যা মোটেই জাবির শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ না। এই ভিন্ন পরিস্থিতি বুঝতে হবে। এ প্রেক্ষিতে আমরা হলে অবস্থানের সিদ্ধান্তে এখনও অটল আছি এবং আজকেই পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীরা উঠবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..