প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আবেগঘন বিদায়ী ভাষণ: দেশবাসীর প্রতি গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান ওবামার

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিদায়ী ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। ভাষণের একপর্যায়ে আবেগতাড়িত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি। খবর বিবিসি।

ওবামা জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা স্বীকার করি বা না করি, গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন।’ তিনি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য তিনটি হুমকির দিকে নির্দেশ করেছেনÑঅর্থনৈতিক বৈষম্য, বর্ণবাদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভক্তি।

অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করেছে উল্লেখ করে মুসলমানদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শিকাগোয় গত মঙ্গলবার ওবামা তার বিদায়ী ভাষণ দেন। হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ওবামা বলেন, আট বছর আগের তুলনায় এখন প্রায় সবদিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে থাকা শক্তিশালী দেশ।

নিজের আট বছরের শাসনামলের সফলতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ টানেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বর্ণবাদ আছে বলে অকপটে স্বীকার করেন ওবামা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবার আরও অনেক কিছু করার আছে।

ওবামার উত্তরসূরি রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন তিনি। এ ব্যাপারে ওবামা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি এ দেশের গণতন্ত্রের এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

যে কোনো বিষয় পারস্পরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আকুল আবেদন জানান ওবামা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মনোযোগ দেওয়া ও শোনা উচিত।’

আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার বয়স এখন ৫৫ বছর। আশা ও পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ২০০৮ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এ শিকাগোতেই বিজয়ী সমাবেশ করেন ওবামা। দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালের শেষবেলায় বিদায়ী ভাষণ দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউজের বদলে সেই শিকাগোকেই বেছে নিলেন ওবামা। শেষ ভাষণে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। মিশেলকে তিনি তার ‘সবচেয়ে কাছের বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ভাষণের সময় ওবামার পাশে ছিলেন তার স্ত্রী মিশেল, মেয়ে মালিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল।

ভাষণের একপর্যায়ে স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ওবামা। তিনি মিশেলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তুমি আমাকে যেমন গর্বিত করেছো, তেমনি দেশকেও গর্বিত করেছো। তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুও। যাকে সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে পেয়েছি। হোয়াইট হাউজে থাকা অবস্থায় তোমাকে কোনো কাজের জন্য কখনও বলতে হয়নি। সব সময় নিজ দায়িত্বে যতœ নিয়ে সব কাজ করেছো।’

স্ত্রীর কথা বলার সময় অশ্রুভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন ওবামা। তাকে একটি সাদা রুমাল বের করে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।