বিশ্ব সংবাদ

আমদানিকৃত ১০ শতাংশ চীনা পণ্যের বিকল্প আছে ভারতের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীন থেকে আমদানি করা ৩২৭টি পণ্যের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা সম্ভব ভারতের পক্ষে, যা দেশটি থেকে মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। এমনকি ভারত চাইলে নিজেও এগুলো উৎপাদন করতে সক্ষম। সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজের (আরআইএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

গবেষণা সংস্থাটি ‘জটিল সংবেদনশীল এ আমদানি পণ্যের’ পরিমাণ নির্ধারণে জাতিসংঘ কমট্রেড ডেটাবেইস ব্যবহার করেছে। ২০১৮ সালে ছয় হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের এ পণ্য আমদানি হয়, যেখানে চীন থেকে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার কোটি ডলারের।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে সীমান্ত দিয়ে সাত হাজার ৬৪০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। চীন থেকে প্রায় চার হাজার রকমের পণ্য আমদানি করে ভারত। অর্থাৎ সে হিসাবে ৩২৭টি পণ্য হলো মোট আমদানি পণ্যের ১০ শতাংশের মতো। তবে এসব পণ্যের মধ্যে আছে মোবাইল, টেলিকম যন্ত্রাংশ, ক্যামেরা, সোলার প্যানেল, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও পেনিসিলিনের মতো পণ্য। প্রতিদিনের ব্যবহারের পণ্য, যেমন মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং নির্দিষ্ট ধরনের ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্যগুলোও আছে। তবে এও ঠিক যে এসব পণ্যের অনেকগুলোর রপ্তানিকারক একমাত্র চীন।

গবেষণার লেখক কেএস মোহান্তি বলেন, বিকল্প আমদানির উৎস তাড়াতাড়ি খুঁজে না পাওয়া গেলেও এসব পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি করা সম্ভব ভারতের পক্ষে। এখন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উৎসাহিত করা উচিত। সরকার মোবাইল, ইলেকট্রনিক পণ্য ও ওষুধ উৎপাদন করতে প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় আসবাব ও পাদুকা থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক পর্যন্ত এক ডজন খাত চিহ্নিত করেছে, যেখানে তারা উৎপাদন শুরু করতে চাইছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখনও চীন থেকে ৯৬টি প্রধান পণ্যের মধ্যে ৪১টির বেশি আমদানি করে। গত বছরের তুলনায় এ বছর জুন পর্যন্ত চীন থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক আমদানি বেড়েছে এক হাজার ৫০০ শতাংশ।

ভারত-চীনের সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ ভারতীয় সেনা। এ ঘটনায় ভারতে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে মূলত ভারতেরই লোকসান হতে পারে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

জানা যায়, চীন থেকে সারা বছর আমদানি করা জিনিসের মধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের জিনিস। এসবের মধ্যে বেশিরভাগই খেলনা, পারিবারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক দ্রব্য এবং নানা রকমের প্রসাধনী রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..