সম্পাদকীয়

আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার রোধে সক্ষমতা জরুরি

এবারের মোট বাজেট ব্যয়ের ৮১ শতাংশ রাজস্ব খাত থেকে আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। এর একটি বড় অংশ আমদানি শুল্ক। শুল্কের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত জনবল নেই। প্রয়োজনের অর্ধেক জনবল সেখানকার কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থপাচার ও চোরাচালান রোধে নজরদারির জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করি।
গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘চীন থেকে সুতার বদলে এলো বালি-মাটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকবে। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এনজেড এক্সেসরিজের একটি আমদানি চালান। চীন থেকে আসা চালানটিতে ২৫ টন সুতা থাকার কথা ছিল, কিন্তু এসেছে বালি ও মাটি। শুল্ক কর্মকর্তারা এই জালিয়াতিকে প্রাথমিকভাবে অর্থপাচার বলেই ধারণা করছেন। বন্ডেড সুবিধার আওতায় এভাবে অর্থপাচার হতে থাকলে বাজেটের বিপরীতে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুষ্কর হয়ে পড়বে। তাই চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ দেশের সব কাস্টমসের নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
ব্যাংক আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, আমদানিকারকের অতীত রেকর্ড এবং রফতানিকারকের ভুল বা প্রতারণা প্রভৃতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। গত মাসের ২৮ তারিখে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে হুন্ডির তিন লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাচারকালে উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া তার দুই মাস আগে টেরাকোটা টাইলসের অর্থ পাচারের ঘটনাও আমরা দেখেছি। এখন প্রশ্ন হলো, অর্থপাচারে নজরদারি বাড়ার কারণে ধরা পড়ছে, নাকি যা ধরা পড়ছে তার বহুগুণে পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে। কার্যত সুতার পরিবর্তে বালি ও মাটিভর্তি কন্টেইনার সাধারণ নজরদারিতে ধরা পড়েনি; বরং কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, এ ব্যাপারে তাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল। উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংকগুলোতে অনেক দিন ধরে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শেয়ারবাজারেও আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। এর পেছনে অর্থ পাচারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে অনেকেই ধারণা করছেন। গত পরশু দিনের শেয়ার বিজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্ধেক লোকবল নিয়ে রাজস্ব ফাঁকি যেমন রোধ করা যাচ্ছে না, ঠিক একইভাবে অর্থপাচার ও চোরাকারবার ঠেকানো যায় না। এমনকি ভাড়া করা লোকবল দিয়ে কাজ করানোর ফলে শুল্ক কেন্দ্রের আশেপাশে বিভিন্ন দুষ্টচক্রের আধিপত্য বেড়ে যাচ্ছে। এসব সংকট নিরসনে সব শুল্ক কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সর্বশেষ..