প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আমদানির প্রভাব : কমেছে চালের দাম 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমদানির প্রভাবে বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। খুচরা পর্যায়ে এখন পর্যন্ত মোটা চাল কেজিপ্রতি তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু সরু চালের দাম কমেছে এক থেকে দুই টাকা। ফলে চালের বাজারে দীর্ঘদিন পর কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন মোটা চালের ক্রেতারা। তবে সরু চালের ভোক্তারা এখনও অখুশি।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চালের অব্যাহত দর বৃদ্ধি ও ঘাটতির শঙ্কার মধ্যে গত মাসে শুল্ক কমানোয় দেশে এখন বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রচুর চাল আমদানি করছেন। চলতি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রায় এক লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে, যা গেল অর্থবছরের পুরো সময়ের আমদানির অর্ধেকের বেশি। এর প্রভাবে বাজারে কমতে শুরু করেছে চালের দাম।

রামপুরা বাজারে চালের ক্রেতা নিয়াজুল করিম বলেন, এত উদ্যোগের পর চালের দাম সামান্য কমেছে। এতে অনেকে খুশি। তবে সবাই মনে করেছিল দাম আরও কমবে। সহনীয় পর্যায়ে আসবে, তা হয়নি। এখন বাজারে তদারকি করা দরকার। যেন ঠিকঠাকমতো চালের সরবরাহ ও দর অনুযায়ী ক্রেতারা সুবিধা পান। কারণ এক বছর আগেই মোটা চাল ৩০ থেকে ৩২ টাকা ছিল।

গতকাল কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, রামপুরা, মালিবাগ, বড় মগবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা পাইজাম চাল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৪-৪৫ টাকা, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে বিক্রি হয়েছে ৪৮-৪৯ টাকা দামে। একইভাবে স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৪ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৬-৪৮ টাকা। এখন এ দুই ধরনের চালই ভারত থেকে বেশি আমদানি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে চিকন চালের দাম আগের তুলনায় এক থেকে দুই টাকা কমেছে। বাজারে মিনিকেট (ভালোমানের) দুই টাকা কমে ৫৬-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের মিনিকেট ৫৪-৫৬ টাকা, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫২ ও উন্নতমানের নাজিরশাইল বিক্রিক হচ্ছে ৫৪ টাকা দরে। এছাড়া খুচরা বাজারে পাইজাম চাল ৪৮-৫০ টাকা, বাসমতি ৫৪-৬০, কাটারিভোগ ৭৪-৭৬ এবং পোলাও চাল (পুরোনো) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, পাইকারিতে মোটা চাল ৪০ থেকে সাড়ে ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের মধ্যে গুটি চাল ৪২ ও স্বর্ণা ৪৩ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান ট্রেডিংয়ের বিক্রেতা মাসুম হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহে প্রচুর আমদানি চাল এসেছে। এতে দাম কমছে। তবে চালের দাম বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে আর বেশি কমবে না। কারণ ইন্ডিয়ানসহ মিয়ানমারে চালের দামও বেশি বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।

আরও কয়েকজন খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে পাইজাম ও স্বর্ণা চালের দাম বেশি কমেছে। তবে অনেক বিক্রেতার দোকানে এখনও আগের চড়া দামে কেনা চালই রয়েছে। তারা নতুন চাল এখনও তোলেননি। আগের চালগুলো বিক্রি শেষ হলে নতুন চাল আনার পর দাম আরও অল্প কিছুটা কমবে খুচরায়।

এদিকে বাজারদর পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সরু ও মাঝারি মানের চালের দাম এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত কমেছে। আর মোটা চালের দাম কমেছে তিন টাকা পর্যন্ত।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্যের বাজার ঘুরে দর-দামে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে গত দুই সপ্তাহ থেকে সাময়িক কিছু পণ্যের দরে হেরফের হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৬০, পটোল ৪০-৫০, ঢেঁড়স ৩০-৫০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙা ৪০-৫০, করলা ৫০-৬০, কাকরোল ৪০-৬০ ও কচুরমুখি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারভেদে দামের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

গতকাল বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ২৮-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চীনের রসুন ১২০, আদা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কয়েকটি বাজারে আলুর দাম আগের তুলনায় দুই-তিন টাকা বেড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগের মতোই দেশি মুগ ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মসুর ডাল মানভেদে ৮০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের মতো নি¤œমুখী রয়েছে চিনির দাম। আটা ও তেলও বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল কিনতে ১০০-১০৬ টাকায় গুনতে হচ্ছে ক্রেতাকে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি কেজি রুই, কাতলা বা মৃগেল মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি তেলাপিয়া ২২০-২৫০, সিলভার কার্প বা পাঙ্গাশ ১৪০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে কম দামে চাষের কৈ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে মিলছে। তবে দেশি টেংরা, মাগুর, শিং বা কৈ কিনতে গেলেই গুনতে হবে কেজিপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা। প্রকারভেদে সমুদ্রের চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা ও প্রতিটি ইলিশ ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।