প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আমদানি ব্যয় বেড়েছে শিল্প খাতে, কমেছে খাদ্যপণ্যে

২০১৮-১৯ অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় (সিঅ্যান্ডএফভিত্তিক) হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আমদানি ব্যয়ের তুলনায় এক দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি। আমদানির এই ব্যয়ের মধ্যে বিমা ছাড়া অন্য সব ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ পণ্য আমদানির পর গুদামে নেওয়ার জন্য পরিবহনসহ সমুদয় ব্যয়সহ এই পরিমাণ ব্যয় হয়েছে।
তবে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ ছাড়া পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় (এফওবিভিত্তিক) হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে এক দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রফতানি থেকে আয় হয়েছে তিন হাজার ৯৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সিঅ্যান্ডএফভিত্তিক আমদানি ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এফওবিভিত্তিক আমদানি ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৪৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, সিঅ্যান্ডএফভিত্তিক আমদানির মধ্যে খাদ্যপণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে ১৫৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
এছাড়া আলোচ্য অর্থবছরে ভোগ্যপণ্য আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় হয়েছে ৩৫১ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় সাত দশমিক ৮১ শতাংশ কম।
আলোচ্য অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল বা মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৩৬০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। এছাড়া বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পেছনে এক হাজার ৪৬০ কোটি ১৯ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছিল এক হাজার ৪৫৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ।
তথ্য ঘেঁটে আরও দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে চাল আমদানি কমেছে ৯২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। অন্যদিকে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় তিন দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্য তেল আমদানি ব্যয় কমেছে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ। চিনি আমদানি ব্যয় কমেছে ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। মসলা আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। তেলবীজ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। সার আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৯ শতাংশ। রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাত শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি ব্যয় বেড়েছে ছয় শতাংশ। লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য মৌলধাতু আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। কাপড় ও চামড়াজাত পণ্যে ব্যবহƒত রং ও অন্যান্য উপকরণ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্যের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে ৯ শতাংশ। তবে ওষুধ আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় তিন শতাংশ। কাঁচা তুলা আমদানি ব্যয় কমেছে প্রায় পাঁচ শতাংশ।
তবে সামগ্রিকভাবে আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি খুব বেশ না হলেও বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ঘাটতির এই অঙ্ক ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম হলেও এর আগের ২০১৬-১৭ বছরের চেয়ে ৬৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।
ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে বিদায়ী অর্থবছরে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, লাগামহীন আমদানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৮১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠেছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৯৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

 

সর্বশেষ..