দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আমনের নতুন চাল বাজারে দাম চড়া

আয়নাল হোসেন : বাজারে আমন মৌসুমের নতুন চাল ওঠা শুরু হয়েছে। তবে এ বছর দাম অনেক চড়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর ধানের দাম চড়া থাকায় চালের ওপর প্রভাব পড়েছে। মোকামে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকার উপরে, যা গত বছর ছিল ৫৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকার পাইকারি চাল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে চলতি আমন মৌসুমের নতুন চাল ওঠা শুরু হয়েছে। এ বছর স্বর্ণা, বিআর-২৮ (লতা নামে পরিচিত) ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়। তবে গত বছর মৌসুমের শুরুতে এই চাল বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৭০০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৪ টাকায়। তবে চলতি বছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের থাবায় সবকিছু উল্টা-পাল্টা হয়ে গেছে। এই অবস্থায় বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকায়, মাঝারি মানের ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা এবং মোটা চাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গত বছর এই দিনে প্রতি কেজি সরু চালের দাম ছিল ৪৮ থেকে ৬০ টাকায় ও মোটা চাল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। 

বাবুবাজার এলাকার মেসার্স তাসলিমা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আবদুর রহিম জানান, বাজারে আমনের নতুন চাল ওঠা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিআর-২৮, বিআর-৩৯, বিআর-৪৯ ও স্বর্ণা চাল ওঠা শুরু হয়েছে। পুরোনো চালের দামেই নতুনগুলো বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে বর্তমানে সব ধরনের চালের চাহিদা একটু কম। 

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছিল ৩৪ টাকায়, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়, গুটি স্বর্ণা চাল গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা, বর্তমানে ৪৩ টাকায়, নাজিরশাইল ৫৩ টাকায়, বর্তমানে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার নসীবপুর গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া জানান, এ বছর আমন মৌসুমে ধানের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। তবে এ বছর ধানের দাম ভালো। হাজার টাকার নিচে বাজারে কোনো ধান বিক্রি হচ্ছে না। যদিও গত বছর প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় তাদের মনে খুশির জোয়ার বইছে।

মিন্টু মিয়া আরও জানান, প্রতি ১০ শতাংশ জমিতে হালচাষ বাবদ খরচ হয়েছে ২৫০ টাকা, বীজ কেনা বাবদ ২০০ টাকা, বীজ বপন বাবদ ৩০০ টাকা, বিষ ও সার প্রয়োগ বাবদ ২০০ টাকা এবং ধান কাটা বাবদ ৫০০ টাকা ও মাড়াই বাবদ খরচ হচ্ছে ১০০ টাকা। এতে মোট খরচ হয়েছে এক হাজার ৫৫০ টাকা। আর ১০ শতাংশ জমিতে এ বছর দান উৎপাদন হয়েছে গড়ে পাঁচ মণ করে। এতে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩১০ টাকা। কৃষক প্রতি মণ দান বিক্রি করে মুনাফা করছেন ৬৯০ থেকে ৭৯০ টাকা পর্যন্ত।

দেশের উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ, রাজশাহী, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের দাম মণপ্রতি মৌসুমের শুরুতেই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) স্বর্ণা ও অন্যান্য ধানের দাম ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এ বছর ৯৫০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ জেলা ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরদ বরণ সাহা বলেন, তাদের এলাকায় প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ১২ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ মণ। প্রতি মণ দানে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৫৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা। তবে এ বছর অতিবৃষ্টি ও কয়েক দফা বন্যা হওয়ায় গত বছরের চেয়ে ধানের উৎপাদন কিছু কম হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..