সারা বাংলা

আমনে লোকসানের পর ইরির চাষ শুরু

Exif_JPEG_420

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালীর কৃষকরা গত আমন মৌসুমে বিঘা প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসানের মুখে পড়েন। এ লোকসান কাটিতে না উঠতেই তাদের অতি কষ্টে এখন ইরি ধান রোপণ করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে জেলার নিন্মাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরি ধান রোপণ শুরু করেছেন কৃষকরা। এ মৌসুমে ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমিতে ধান রোপণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে জেলাজুড়ে ধান আবাদে নানা রকম দুর্যোগে লোকসান হয়ে আসছে। কখনও বন্যা, কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবার কখনও নানা রকম মৌসুমী রোগ বালাইয়ের কারণে ধানের ফলন বিপর্যয় দেখা দেয়। এছাড়া বাজারে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় চরমভাবে লোকসান হয়ে আসছে ধান আবাদে।

গত আমন মৌসুমে শুরুতে ধানে তেমন কোনো রোগ বালাই না থাকলেও ধানের শীষ আসার সময় রোগে আক্রান্ত হয়ে চরমভাবে ফলন বিপর্যয় দেখা দেয়। এছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে না পারায় বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসানের কবলে পড়েন কৃষকরা।

সুবর্ণচরের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বাপ-দাদার প্রধান পেশা কৃষি। এটা ছাড়া অন্য কিছু পারি না। তাছাড়া, আমরা উৎপাদন না করলে ভবিষ্যতে চালের দামও পেঁয়াজের মতো বেড়ে যাবে।

শত কষ্টেও লাভ বা লোকসান যাই হোক কৃষক আনোয়ার কৃষিকাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাছাড়া এ পেশায় আরও ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে অগ্রসর হতে চান তিনি।

কৃষক জামাল হোসেন, রবি অলম, মুজিবুল হকসহ অন্যরা মনে করেন, জনগণের পাশাপাশি আমাদের সরকারের উচিত দেশ, জাতি ও কৃষকের স্বার্থে কৃষির ওপর আরও নজর দেওয়া।

জেলার সদর উপজেলার দাদপুরের কৃষক ফজলু মিয়া, আকবর আলী, কাদির, হানিফ গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীনসহ অন্য কৃষকরা বলেন, এ জেলা কৃষি নির্ভরশীল। আমাদের প্রধান কর্মই কৃষি এবং ধান উৎপাদন। লোকসান হলেও ধান আবাদ করতে হবে। আবার লাভ হলেও ধানের আবাদ করতে হবে। তাই গত মৌসুমের লোকসানের ভার কাঁধে নিয়েই ধান রোপণ শুরু করা হয়েছে।

তবে সারের দাম কমিয়ে দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষকদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. আবুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমিতে ইরি ধান রোপণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ অথবা ১৫ দিনের মধ্যে ধান রোপণ শেষ হবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..