সারা বাংলা

আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচ পাচ্ছে ৬৫ হাজার হেক্টর জমি

তিস্তা সেচ ক্যানেল

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার ১২ উপজেলায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদে সম্পূরক সেচ দিচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প। চলতি আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টি, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও খরা মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পটি ক্যানেল তীরবর্তী কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।
দুই দফা বন্যার পর হঠাৎ করে কোথাও কোথাও তীব্র খড়া দেখা দিয়েছে। এতে আমন ধানের চারা রোপণ ব্যাহত হয়। পাশাপশি রোপণকৃত আমনের চারা পানির অভাবে পুড়ে যাচ্ছে। তিস্তার সেচ ক্যানেলের সম্পূরক সেচে পুড়ে যাওয়া চারা তরতাজা হয়ে উঠেছে। সেখানে ৭১০ কিলোমিটারজুড়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, গত জুলাই থেকে আমন ধানে সম্পূরক সেচ দেওয়া হচ্ছে। সেচ প্রকল্পে আমন মৌসুমে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) ছিল এক লাখ ১১ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমে তিন জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে নীলফামারী সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর ও খানসামা উপজেলাসহ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। এই সম্পূরক সেচ অব্যাহত থাকলে তিস্তা সেচ কমান্ড এলাকায় ধানে ধানে কৃষকের গোলা ভরে উঠবে।
সূত্র জানায়, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে রেপা আমন ধান লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীতে এক লাখ ২৩ হাজার ৩৭ হেক্টর, রংপুরে এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৪১, লালমনিরহাট ৯০ হাজার ৪০০, গাইবান্ধায় এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ ও কুড়িগ্রামে এক লাখ ২২ হাজার ১৫৯ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ দেশীবাড়ী হাগুড়া ডাঙ্গার ক্যানেল তীরবর্তী কৃষক হামের উল্লা জানান, চলতি মৌসুমে দুই দফা বন্যার পর হঠাৎ চলতি খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে আমন ধানের চারা পুড়ে যাচ্ছে। আবার কোথায় মাটি ফেটে রোপিত চারা নষ্ট হচ্ছে। এ সময় তিস্তা সেচ ক্যানেলের পানি কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য আশীর্বাদ।
এদিকে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প এলাকা দুই দিনের জন্য পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। এবার খরা মৌসুমে তিস্তা সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সরকার সেচ প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে তিস্তা নদীর পানি চুক্তিও হবে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকের পর চূড়ান্ত পর্যায় জানা যাবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সচিব পর্যায়ে বৈঠক শেষ হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প শুধু খরিপ-২ মৌসুমের জন্য নির্মিত। আমন ধানের সেচ ও ফলন আশানুরূপ করার লক্ষ্যে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির অভাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। যাতে কৃষক আমন ধান সহজে ঘরে তুলতে পারে, সেজন্য এই মৌসুমে নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..