প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘আমরা সারা বছরই বই প্রকাশ করে থাকি’

জহিরুল আবেদীন জুয়েল ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের কর্ণধার। প্রকাশনাশিল্প ও একুশে গ্রন্থমেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আদিল

শেয়ার বিজ: ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের শুরুটা কেমন ছিল?

জহিরুল আবেদীন জুয়েল: ২০০৩ সালের ১ আগস্ট আমাদের সূচনা। প্রকাশনা জগতে অনন্য একটি ধারা আনার চেষ্টা করছি আমরা। এজন্য অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করতে হয়েছে আমাদের।

শেয়ার বিজ: এবারের বইমেলায় কতগুলো নতুন বই এনেছেন?

জহিরুল আবেদীন: দেশে বইমেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশের চলটা বেশি। তবে বছরের অন্যান্য সময়ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বই প্রকাশ করেছি আমরা। সংগত কারণে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বেশি বই প্রকাশ করা হয়েছে। এবার আমরা প্রায় ৫৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আটশর বেশি বই প্রকাশ করেছি আমরা।

এর মধ্যে বেশকিছু বই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

শেয়ার বিজ: লেখালেখিতে কাদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন? তাছাড়া আপনাদের বই প্রকাশের আগে বাছাই প্রক্রিয়াটি কেমন?

জহিরুল আবেদীন: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা মানসম্মত লেখাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি। মে-জুনের মধ্যেই আমরা পরবর্তী বছরের কাজ গুছিয়ে নিই। এ সময়ের মধ্যেই পাণ্ডুলিপি নিয়ে থাকি। ফলে পাণ্ডুলিপি যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে কাজ করলে পাঠকের হাতে নির্ভুল বই তুলে দেওয়া যায়। এতে প্রকাশনার মান ভালো থাকে, বইও থাকে সমৃদ্ধ। তাছাড়া আমরা সারা বছরই বই প্রকাশ করে থাকি। এর একটাই কারণ, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ বইমেলানির্ভর প্রকাশনা সংস্থা হতে চায় না।

শেয়ার বিজ: একুশে গ্রন্থমেলা নিয়ে আপনার ভাবনার কথা বলুন।

জহিরুল আবেদীন: বইমেলা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে। মানুষের জীবনমান অনেক এগিয়েছে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হচ্ছে। দীর্ঘ এক মাসের পরিবর্তে ১৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা যেতে পারে। পাঠক-ক্রেতারা মূলত শেষের ১০ দিনই মেলায় আসেন। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত দিনব্যাপী মেলা হয় না। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মেলায় মৌসুমি প্রকাশকদের স্টলগুলোর কারণে মানসম্মত প্রকাশনাগুলো অনেক সময় প্রত্যাশিত জায়গা পায় না। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে, যেন মানসম্মত প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।