প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ভোট দিতে যেতে দেওয়া হয় না, আমাদের কোথাও দাঁড়াতেও দেওয়া হয় না, আমাদের সভা করতে দেওয়া হয় না। ঘরের মধ্যে মিটিং করতে হয়, যেখানে গোয়েন্দা বাহিনীর কত লোক বসে আছে। এই যে বিষয়গুলো কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে গণসংস্কৃতি দলের উদ্যোগে রাজনীতিক অলি আহাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী ও প্রয়াত চলচ্চিত্রকার চাষি নজরুল ইসলামের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে  তিনি বলেন, দেশে ‘গণতন্ত্র নেই’ বলে বাইরের নেতাদের জানালেও ক্ষমতায় বসার জন্য বিএনপি তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা করে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে এ কথা বলতে চাই, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র  নেই, গণতন্ত্রের মুখোশ পরে, গণতন্ত্রের লেবাস পরে যারা আন্তর্জাতিক বিশ্বে গণতন্ত্রের কথা বলছে, তারা মিথ্যা কথা বলছে, তারা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে। সেই কারণে আমরা বিভিন্ন নেতার সঙ্গে দেখা করি, বাইরের থেকে কেউ এলে তার সঙ্গে দেখা করি। এ কথাটাই আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা কারও কাছে দয়া ভিক্ষা করি না। আমরা এ কথা বলি না, আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও, কাউকে বলি না এ কথা। আমরা এ কথা বিশ্বাস করি না, কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে।

বিএনপির ৭০ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, হাজারের বেশি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং পাঁচশোর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

‘এ রকম পরিবেশে আপনারা বলছেন, নির্বাচন করবেন, চমৎকার পরিবেশ আছে। কোনোটাই পরিবর্তন করতে দেবেন না। সেনাবাহিনী নিয়োগ করা যাবে না, সহায়ক সরকার করা যাবে না, সংসদ বিলুপ্ত করা হবে। তাহলে নির্বাচনের দরকারটা কী? বলে দেন একদলীয় শাসনব্যবস্থা। ’৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন, এটা ঘোষণা করে দেন।’

গত রোববার রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানের জন্য ‘সমস্যাগুলো’ তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

পরে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভারত আশা করে আগামীতে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’

লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ তোলেন মির্জা ফখরুল।

‘ম্যাডামের বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা। কীভাবে আপনারা এখানে গণতন্ত্রের কথা বলেন, কীভাবে ন্যায়বিচারের কথা বলেন, কীভাবে বলে যে, আমরা কোনো পক্ষপাত করি না। ওই আদালতকে কুক্ষিগত করবার জন্যই তো এভাবে প্রধান বিচারপতিকে অপমানজনকভাবে দেশ থেকে বের করে দিয়েছেন আপনারা। কোনো প্রতিষ্ঠান আপনারা বাকি রাখেননি।’

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে : মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘রোহিঙ্গা সমস্যা, এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটাকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই। আজকে রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে যেমন আমরা দেশে অত্যন্ত বড় বিপদে পড়েছি, তেমনি একটা বড় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে। ডা. জাফরুল্লাহ সাহেব (উপস্থিত) বলেছেন যে, এখানে আরেকটা প্যালেস্টাইন তৈরি করবার কাজ শুরু হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। আমরা বলেছি সরকারকে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই সমানভাবে; আমরা সহযোগিতা করতে চাই।’