দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আমানত জমা পড়েছে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা

১০-১০০ টাকার ব্যাংক হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্কুলশিক্ষার্থী, কৃষক, প্রতিবন্ধী, সামাজিক ভাতা গ্রহণকারী, তৈরি পোশাক খাতের কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা অঙ্কের হিসাব খোলার সুযোগ দেয়া হয়। আর্থিক তথা ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে পিছিয়ে পড়াদের আনতে মূলত উদ্যোগটি নেয়া হয়। ন্যূনতম অর্থেই এ হিসাবগুলো খোলা ও পরিচালনা করা যায়। এসব হিসাব পরিচালনায় ব্যাংকগুলো কোনো সেবা ফি নিতে পারে না। বর্তমানে হিসাবগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত সেপ্টেম্বর শেষে এসব হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ ৫৬ হাজারে। এ সময়ে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এসব হিসাবের প্রায় অর্ধেকই কৃষকদের। মোট হিসাবের ৪৪ শতাংশই কৃষকদের হাতে খোলা ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব। এ হিসাবে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব ও আমানতের পরিমাণই বেশি। কৃষকদের ব্যাংক হিসাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার। এতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৪ কোটি টাকা।

১০, ৫০ ও ১০০ টাকা ব্যাংক হিসাবের মোট সংখ্যাগত দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানের রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ভাতা গ্রহণকারী। মোট হিসাবে তাদের অংশ হচ্ছে ৩৫ শতাংশ। এরপরই রয়েছে অতি দরিদ্র শ্রেণির ১২ শতাংশ। আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এসব হিসাবে ১৯১ কেটি টাকা। ১০ টাকা ব্যাংক হিসাবেও রেমিট্যান্সও আসতে শুরু করেছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে এ হিসাবে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯৭ কোটি টাকা।

অপরদিকে স্কুলছাত্রদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজারে। এতে আমানতের পরিমাণ হচ্ছে এক হাজার ৮২১ কোটি টাকা। পথ শিশুদের হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৫২টিতে। এখানে আমানতের পরিমাণ হচ্ছে ৩৯ লাখ টাকা।

অপরদিকে তৈরি পোশাক খাতেরা কর্মীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে চার লাখ ৫১ হাজারে। এতে আমানত রয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা। তিন মাস পূর্বেও এসব হিসাবের সংখ্যা ছিল চার লাখ ৩৫ হাজারে।

তিন মাসের ব্যবধানে তাদের ব্যাংক হিসাব সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত কভিড-১৯ মহামারিতে তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বেতনের অর্থ সরাসরি দেয়া তাদের হাতে। এজন্য প্রত্যেক কর্মীকেই ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে বলা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে করোনাভাইরাসের জন্য ঘোষিত সরকারি সাধারণ ছুটিকালীন সময়েও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে তৈরি পোশাক খাতের কর্মীরা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে সবাইকে ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। দিন দিন এসব হিসাবের সংখ্যা ও আমানতের পরিমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরাও সহজেই ঋণ নিতে পারছেন এসব হিসাবের মাধ্যমে। এতে সঞ্চয়ের প্রতিও মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় গত জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রান্তিকে মোট আমানতের পরিমাণ কমে এসেছে। শতাংশ হিসেবে এটি শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। কয়েকটি খাতের হিসাবে আমানতের পরিমাণ কমে আসার প্রভাব পড়েছে মোট আমানতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষক, অতি দরিদ্র ও সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগীদের আমানত কমেছে। কারণ হিসেবে ব্যাংকাররা বলছেন, কভিড-১৯ এর কারণে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ টিকে থাকতে সর্বশেষ জমানো অর্থ খরচ করেছে। এতে ব্যাংক থেকে তাদের অর্থ তুলতে হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে মোট আমানতের ওপর।

এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ কমে আসার বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের প্রবৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্ত করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাইরের জেলাগুলোতে। সব ব্যাংক এখনও এসব হিসাব খোলার বিষয়ে তৎপরতা বৃদ্ধি করেনি। ব্যাংকগুলো উদ্যোগী হলে ব্যাংক হিসাব ও আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..