প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আমার প্রাণের বর্ণমালা

কাজী সালমা সুলতানা: ১৯৪৭-এর শেষের দিকে যে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরিণতি লাভ করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এর আগে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ববাংলা প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। ’৪৮-এর মার্চের পর মনে হয়েছিল ভাষা আন্দোলন বুঝি শেষ হয়ে গেছে। ছাত্ররা প্রতি বছর ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন করতেন। তার মধ্যেই ভাষা আন্দোলনের রেশটি টিকে ছিল। কিন্তু ভাষার দাবি যে পূর্ববাংলার বিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না তা ১৯৫২ সালে প্রকাশ পায়। কায়দে আজমের মৃত্যুর পর ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর লিয়াকত আলী খান নিহত হন। পাকিস্তান সম্পর্কে পূর্ববাংলার মানুষের যে সাম্প্রদায়িক মোহ ছিল সেটাও অনেকটাই কেটে গেছে। এমতাবস্থায় ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় পূর্ববঙ্গের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন প্রায় দেড়ঘণ্টা বক্তৃতা করেন। এ বক্তৃতা শেষে তিনি বলেন ‘পাকিস্তানকে আমরা ইসলামিক রাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলতে যাচ্ছি। ইসলামে যেমন কোনো কুসংস্কার বা ভেদাভেদ নেই, তেমনি এমন রাষ্ট্রে কী করে প্রাদেশিকতার বিজ বপন করা যাবে? মরহুম কায়দে আযম বলেছেন- প্রাদেশিকতাকে যে বা যারা প্রশ্রয় দেয়, তারা পাকিস্তানের দুশমন।’ এরপর তিনি ভাষা আন্দালন নিয়ে বলেন ‘প্রদেশের ভাষা কি হবেÑতা প্রদেশবাসীই ঠিক করবে, তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। একাধিক রাষ্ট্রভাষা থাকলে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’

তার বক্তব্যের এ স্ফুলিঙ্গটুকুই ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের দাবানল সৃষ্টির পক্ষে যথেষ্ট ছিল। শুরু হলো প্রতিরোধ আন্দোলন। এরপর ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের তদানিন্তন খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের এক জনসভায় ঘোষণা দেনÑ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। নাজিমুদ্দিনের এ বক্তৃতা বেতারযোগে সরাসরি প্রচারিত হওয়ায় ঢাকাসহ সমগ্র প্রদেশে ভয়ানক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। ১৯৫২ সালে ৩০ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লিগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’। একই দিনে অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভায় বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট সভার ঘোষণা করে। (ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস- বশির আল হেলাল)