Print Date & Time : 14 July 2020 Tuesday 3:52 am

আম্পানে চুয়াডাঙ্গায় ফসলসহ ক্ষতি শতকোটি টাকার বেশি

প্রকাশ: মে ২২, ২০২০ সময়- ১১:২০ পিএম

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বুধবার ভোর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় আম্পান। এ সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৮২ কিলোমিটার।

বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১৪৮ মিলিমিটার। ঝড়ে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তার ধারের বড় বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়।রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সকালে কিছু এলাকায় সরবরাহ দেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে কলা, আম, পান, লিচু, বোরো ধান, সবজি, ডালসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, উৎপাদিত বোরো ধানের ৯৪ শতাংশ কৃষক ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ছয় শতাংশ মাঠে ছিল, যার পরিমাণ দুই হাজার ৩১০ হেক্টর। হেক্টরপ্রতি ছয় টন ধান উৎপন্ন হলে দুই হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপন্ন হবে ১৩ হাজার ৮৬০ টন। এক মণ ধান ৮৫০ টাকায় বিক্রি করলে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

৫০০ হেক্টর জমির কলার মধ্যে ২০০ হেক্টর জমিতে হেক্টরপ্রতি কলা উৎপন্ন হয় ২৫ টন। টনপ্রতি ২০ হাজার টাকা দরে কলা বিক্রি হলে মূল্য দাঁড়ায় ১০ কোটি টাকা। আম বাগানের এক হাজার ৯৫০ হেক্টরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাগানের পরিমাণ এক হাজার ১৭২ হেক্টর। হেক্টরপ্রতি আমবাগান থেকে আম উৎপন্ন হয় ১৫ টন।

টনপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা দরে আম বিক্রি করলে মূল্য হয় ৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সাত হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ শাকসবজির জমির পরিমাণ এক হাজার ৭৭৪ হেক্টর। হেক্টরপ্রতি ১৫ টন উৎপাদিত শাকসবজি ১৫ হাজার টাকা টন দরে বিক্রি করলে মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এক হাজার ৬১৭ হেক্টর পান চাষের মধ্যে ৬২৭ হেক্টর জমিতে ছয় টন হারে পান উৎপন্ন হলে আট হাজার টাকা টন দরে বিক্রি করা পানের মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া মুগডালসহ অন্য ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বসাকুল্যে হিসাব করে দেখা যায়, ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকার বেশি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জন্য আগে থেকেই সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।