আজকের পত্রিকা দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শেষ পাতা সর্বশেষ সংবাদ সারা বাংলা

আম্পানে নওগাঁয় ৫০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে

প্রতিনিধি, নওগাঁ: ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নওগাঁয় আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমচাষিরা বলছেন, ঝড়ে আমগাছের প্রায় ৫০ শতাংশ আম ঝরে পড়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি। 

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমের বাগানগুলোয় পড়ে আছে ঝরে পড়া আম। ফেটে নষ্ট হয়েছে এর অনেকগুলো। কোনো কোনো বাগানে আমের গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। ডাল ভেঙে পড়েছে অনেক গাছের।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত ১টা থেকে ২টা নাগাদ আম্পান নওগাঁয় আঘাত হানে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার।   

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নওগাঁ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। চার হাজার ৮০০ আমচাষির প্রায় সাত হাজার বাগান রয়েছে।  এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ এক লাখ ৮৫ হাজার আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা ও সাপাহার উপজেলায়। সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি সাইফুর রহমান বলেন, ৪০ বিঘা জমির ওপর তার চারটি বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের তিন হাজার গাছের অর্ধেক আম পড়ে গেছে। বেশ কিছু গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ঝরে পড়া আম প্রতি কেজি তিন-চার টাকার বেশিতে বিক্রি হবে না। যেগুলো ফেটে গেছে সেগুলো কেউ কিনবে না।

সাপাহার উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সাপাহারে এবার আট হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার এমনিতেই বাগানগুলোয় আম কম ধরেছিল। তার ওপর এই ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা যায়নি, তবে কিছু বাগান পরিদর্শন করে ধারণা করা হচ্ছে, আমগাছের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ আম পড়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমচাষিদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..