সম্পাদকীয়

আয়বৈষম্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

গত তিন দশকে দারিদ্র্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু বৈষম্য রোধ করার ক্ষেত্রে সাফল্য এখনও আসেনি বলেই প্রতীয়মান। দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল প্রকাশিত ‘কভিডের মধ্যেও বেড়েছে কোটিপতিদের আয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আয়বৈষম্য বৃদ্ধির আরেক নজির স্থাপন করেছে বলেই মনে হয়।

প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, চলমান কভিড মহামারিকালেও দেশের ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার বেশি আমানতধারী হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। এ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, কভিড উচ্চবিত্তদের আর্থিকভাবে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। কিন্তু নিন্মবিত্ত, নিন্ম-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শ্রমজীবীরা কভিডের কারণে আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

কোটিপতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে নিন্ম আয়ের মানুষদের রোজগার কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আয়ের দিক দিয়ে নিচের দিকে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠীর আয়-রোজগার যে তেমন বৃদ্ধি পায়নি, তা বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। একদিকে কোটিপতিদের ব্যাংক হিসাবে অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে মোট আয়ে নিন্ম আয়ের মানুষের রোজগারের অংশ সংকীর্ণ হওয়া প্রমাণ করে যে, দেশে আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়টি কোনোভাবেই সুখকর হতে পারে না, যা বিশেষজ্ঞরাও উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কভিডে বড়লোক শ্রেণির আয় কমেনি বরং ব্যয় কমেছে। কারণ তারা আগে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যেত, অনেকে পার্টির আয়োজন করত এখন পরিস্থিতির কারণে এসব বন্ধ রয়েছে, তাই খরচ কমেছে। আর মহামরির কারণে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় উচ্চবিত্তরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন। ফলে তাদের আয়ে উল্লম্ফন অব্যাহত।

এর বিপরীতে চলমান সাধারণ ছুটিতে নিম্ন আয়ের মানুষ অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ঢাকা শহরে কয়েক লাখ রিকশাচালক রয়েছেন। তারা কীভাবে দিনাতিপাত করছেন সে বিষয়ে কয়েকদিন আগে দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তারা ভালো নেই। কিন্তু তারা সরকার বা দেশের ধনাঢ্য জনগোষ্ঠীর তরফ থেকে তেমন সহযোগিতাও পাচ্ছেন না। অথচ ব্যাংকের ধনিক শ্রেণির অর্থের স্তূপ জমছে।

বিশ্বের সব দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে নিন্ম আয়ের জনগোষ্ঠীকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু গত বছর সরকারের তরফ থেকে যেসব সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে ব্যবসায়ীরাই বেশি সুবিধা পেয়েছিল বলে প্রতীয়মান। চলমান লকডাউনে যেসব মানুষ কর্মহারা হয়েছেন, তাদের সহযোগিতায় এখনও কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নানা ধরনের আয়বর্ধনমূলক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে আয়বৈষম্য নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..