দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আয়-মুনাফায় এগোচ্ছে এক্মি ল্যাবরেটরিজ

পলাশ শরিফ : আয়-মুনাফায় এগোচ্ছে এক্মি ল্যাবরেটরিজ। ছয় বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওই কোম্পানিটির সম্পদ, আয় ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য, দেশে-বিদেশে ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার ওপর ভর করেই এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধ শিল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এক্মিও আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন কোম্পানিটির দায়িত্বশীলরা।

তথ্যমতে, ছয় বছর আগে ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে এক্মি ল্যাবরেটরিজের বিক্রয়লব্ধ আয় ছিল এক হাজার ২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা ২০১৮-১৯ আর্থিক বছর শেষে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে এক্মির আয় ৬০৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিক্রয়লব্ধ আয়ের প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটিকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আর আয়ের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এক্মি ল্যাবরেটরিজের কর-পরবর্তী মুনাফা ও সম্পদ বেড়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের জুন শেষে প্রায় ৮৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল এক্মি ল্যাবরেটরিজ। ২০১৯ সালের জুন শেষে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৪ কোটি তিন লাখ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা প্রায় ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ বা প্রায় ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেড়েছে।

প্রতিযোগী কোম্পানির চেয়ে তুলনামূলক কম দামে গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন-বিপণন, দেশে-বিদেশে ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতাই এক্মি ল্যাবরেটরিজের ব্যবসায়িকভাবে এগিয়ে থাকার মূল চালিকাশক্তি বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির দায়িত্বশীলরা। 

আলাপকালে এক্মি ল্যাবরেটরিজের কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ছয় দশকের বেশি সময়ের পথচলায় সব সময়েই গুণগত মানকে প্রাধান্য দিয়েছে এক্মি। সেই সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তাই তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের ওষুধ বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এ কারণে দেশে-বিদেশে এক্মির ওষুধের বাজার বেড়েছে। দেশের চাহিদা পূরণ করে এখন বিশ্বজুড়ে ৩৫টিরও বেশি দেশে আমরা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ রফতানি করছি। এগিয়ে চলার ধারা অব্যাহত রাখতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এদিকে আয়-মুনাফার সঙ্গে এক্মি ল্যাবরেটরিজের সম্পদও বেড়েছে। ২০১৩ সালে কোম্পানিটির মোট সম্পদের মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার ৫৫১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা ২০১৯ সালে দুই হাজার ২৯২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ছয় বছরে এক্মি ল্যাবরেটরিজের সম্পদ প্রায় ৭৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

এক্মি ল্যাবরেটরিজের আয়-মুনাফা ও সম্পদ বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরাও। ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের প্রতি বছর ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এক্মি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। ওষুধ ও রসায়ন খাতের এগিয়ে থাকা ওই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক্মি ল্যাবরেটরিজের প্রায় ২১ কোটি ১৬ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক শূন্য আট শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক্মি ল্যাবরেটরিজের প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৫৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে। মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বিবেচনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থানে রয়েছে কোম্পানিটি। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..