প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরএন স্পিনিং: পরিচালকদের জরিমানা কমিয়েছে বিএসইসি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আরএন স্পিনিং মিলসের উদ্যোক্তা পরিচালকদের জরিমানার অর্থ কমিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির দণ্ডিত পরিচালকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির জরিমানা ৫০ শতাংশ মওকুফ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কোনো আবেদন না করায় কোম্পানির প্রাতিষ্ঠনিক জরিমানা বহাল রেখেছে বিএসইসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, রাইট শেয়ারে জালিয়াতি করায় ২০১২ সালে এ কোম্পানি ও একাধিক পরিচালককে জরিমানা করে বিএসইসি। আর সে জরিমানার মধ্যে বিএসইসি কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালদের জরিমানার পরিমাণ কমিয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালক আবদুল কাদের ফারুকের জরিমানা ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ লাখ করা হয়েছে। কোম্পানির পরিচালক কিম জু সুকের জরিমানাও ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ লাখ করা হয়েছে। কোম্পানির আরেক উদ্যোক্তা পরিচালক শিরীন ফারুকের জরিমানা ২৫ লাখ টাকা থেকে কময়ে সাড়ে ১২ লাখ করা হয়েছে। কিন্তু আরএন স্পিনিং মিলসের জরিমানা আগের মতো ১০ লাখ টাকাই বহাল রয়েছে।

জানা যায়, জালিয়াতির কারণে আরএন স্পিনিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপর বিএসইসির মামলা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করছে এ দ্বন্দ্ব। উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে তিন দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩০ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩০ টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৫৮৪টি শেয়ার এক হাজার ৯৮৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩০ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩২ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ছয় টাকা ৫৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৯৭ পয়সা। ওই বছর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৯১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আর ২০১০ সালে ৩০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস ছিল পাঁচ টাকা চার পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছিল ১৬ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৭৮ পয়সা ও ১২ টাকা ১৭ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৫৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২ কোটি এক লাখ ৯০ হাজার টাকা।

গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪০ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই ইপিএস ছিল চার পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ৪৪ পয়সা।

অন্যদিকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির এনএভি ২৩ টাকা ৯৭ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময় ২৫ টাকা ৬৫ পয়সা ছিল। এক বছরে এনএভি এক টাকা ৬৮ পয়সা কমেছে।

কোম্পানির মোট ২৪ কোটি ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৭০৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে ৩৬ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৪৮ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।